Narendra Modi: মহিলা সংরক্ষণ বিল সংসদে পাশ না হওয়ায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। আজ রাত সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিষয়েই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন। শুক্রবার ভোটাভুটিতে বিলটি হেরে যাওয়ার পর বিজেপি এবং বিরোধী শিবির একে অপরকে দোষারোপ করছে। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ রাত সাড়ে ৮টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন। মনে করা হচ্ছে, সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়া নিয়েই তিনি কথা বলবেন। বিরোধীদের বাধায় এই বিলটি পাশ করানো যায়নি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এর আগে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি এই বিল পাশ না হওয়ার জন্য কংগ্রেস ও ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে একহাত নেন। সংসদে মহিলাদের ৩৩% সংরক্ষণের এই পদক্ষেপে একজোট হতে না পারায় তিনি বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কী বিষয়ে বলবেন?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কী বিষয়ে কথা বলবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা বিজেপির পক্ষ থেকে মোদীর রাত সাড়ে ৮টার ভাষণ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি। সূত্রের খবর মহিলা সংরক্ষ বিল সংসদে পাশ হয়নি। এই বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলতে পারেন। যদিও এখনও স্পষ্ট নয় মোদীর বক্তব্যের বিষয় সম্পর্কে।

এর আগে মোদী হঠাৎ রাতের বেলার ভাষণের পরই লাগু হয়েছিল নোটবন্দি। করোনাকালের শুরুর পর্বেও মোদীর ভাষণ দেওয়ার পরই লাগু হয়েছিল লাকডাউন। লকডাউন চলাকালীন স্বাস্থ্য পরিষেবা ও জরুরি পরিবেষার সঙ্গে যুক্ত শুভেচ্ছা জানানোর দেশজোড়া কর্মসূচিও ঘোষণা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী তাঁর ভাষণের মাধ্যমে। যাইহোক এবার মোদীর কী বিষয়ে কথা বলবেন তাই নিয়ে যথেষ্ট জল্পনা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই।

মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে শাসক বিরোধী টানাপোড়েন

শুক্রবার, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিলটি পেশ করে। এটি পাশ করার জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়। লোকসভার ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ২৯৮ জন সদস্য সমর্থন করলেও, বিপক্ষে ভোট দেন ২৩০ জন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নিশ্চিত করেন যে বিলটি পাশ হয়নি। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, কেন্দ্র এই সংক্রান্ত বাকি আইনগুলো নিয়ে আর এগোবে না।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যখন মহিলা সংরক্ষণ আটকে দেওয়ার জন্য বিরোধীদের অভিযুক্ত করেছেন, তখন রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতারা দাবি করেছেন যে তাঁরা কোটার পক্ষে, কিন্তু ডিলিমিটেশনের সঙ্গে এর সংযুক্তিকরণের বিরুদ্ধে।

তামিলনাড়ুর পোন্নেরিতে এক নির্বাচনী জনসভায় রাহুল বলেন, "গতকাল সংসদে ওরা একটা নতুন বিল এনেছিল। ওরা বলেছিল এটা মহিলাদের বিল, কিন্তু সেটা তো ২০২৩ সালেই পাশ হয়ে গিয়েছিল। ওই বিলের পেছনের আসল উদ্দেশ্য ছিল ডিলিমিটেশন। তামিলনাড়ু এবং দক্ষিণের ও ছোট রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমানোই ছিল আসল মতলব। আমরা গতকাল সংসদে সেই বিলকে হারিয়ে দিয়েছি।"

নিজের বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ভারত হল "রাজ্যগুলির একটি ইউনিয়ন", যেখানে প্রতিটি রাজ্যের সমান অধিকার থাকা উচিত। "প্রত্যেকটি রাজ্যেরই ইউনিয়নে নিজস্ব কণ্ঠস্বর থাকা উচিত এবং নিজেদের ভাষা প্রকাশ ও ঐতিহ্য রক্ষা করার স্বাধীনতা থাকা উচিত।"

এদিকে, বিজেপি ও তার শরিক দলগুলো কংগ্রেস এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিরুদ্ধে পথে নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এই জোট নারী-বিরোধী এবং দেশের মহিলাদের উন্নতি চায় না। এই পরিস্থিতিতেই আজ রাতে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।