বিহারের নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে এক্কেবারে কড়া ভাষায় পাকিস্তানকে বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। আর সেইসঙ্গে প্রকাশ্য জনসমাবেশে জানিয়ে দিলেন পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কারণ, ভারতবাসী কোনওদিনই দেশভাগের পক্ষে ছিল না এবং এই সব স্থানে হিন্দু, শিখ এবং বৌদ্ধরা বসবাস করতেন। তাদের উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে। 

 

বুধবার বিহারের মজফ্ফরপুরে নির্বাচনী প্রচারে যান রাজনাথ সিং। সেখানেই জনসমাবেশে পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনসমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজনাথ বলেন, 'আজ একটা কথা পরিষ্কার করে পাকিস্তানকে বলে দিতে চাই যে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের অঙ্গ এবং ভারত আজও পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে নিজের ভূখণ্ড বলেই মনে করে। ভবিষ্যতেও আমরা এই অবস্থান বজায় রাখবো এবং মনে করবো পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ভারতের সঙ্গেই রয়েছে। এটা আমাদের সংসদের-ও রেজলিউশন।' 

 

দিন দুই আগেই টুইটারে পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং গিলগিট-বালতিস্তান-কে ভারতের অঙ্গ বলে দাবি করেন রাজনাথ সিং। সেই নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। টুইটারে রাজনাথ স্পষ্টতই লেখেন-  'পাকিস্তান অনৈতিকভাবে গিলগিট-বালতিস্তানকে দখল করে রয়েছে। পাকিস্তান এখন এটাকে প্রদেশ বানানোর চেষ্টা করছে। আমাদের সরকার বারবার ব্যাখ্যা দিয়েছে যে গিলগিট-বালতিস্তান-সহ পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আমরা কখনও ভারত ভাগের পক্ষে ছিলাম না, কিন্তু এটা হয়েছিল। যে সব হিন্দু-শিখ-বৌদ্ধ পাকিস্তানে থেকে গিয়েছিলেন, আজ তাদের কী দুর্দশা তা সকলেরই জানা। কীভাবে তাদের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে, তা সকলেই জানেন। পাকিস্তানে বসবাসকারী সংখ্যালঘুদের জন্য আমরা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ২০১৯ নিয়ে এসেছি- সেটাও আপনারা জানেন।' 

আরও পড়ুন- 'দুই যুবরাজের মুকুট' বনাম 'ডাবল ইঞ্জিন সরকার' - বিহার ভোটের সূর বেঁধে দিলেন মোদী

পুলওয়ামায় সন্ত্রাস হামলার পর থেকেই ভারত পাক অধিকৃত কাশ্মীরের দাবিতে আন্তর্জাতিক মহলে তার আওয়াজ বারে বারে সামনে নিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছিলেন যে, পাকিস্তান যে সব স্থানে ভারতীয় ভুখণ্ড দখল করে বসে আছে, তা পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক মহলে আওয়াজ তোলা হবে। গত এক বছর ধরে লাগাতার সেই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই নিয়ে বারবার বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে সভা-সমাবেশে আওয়াজ তুলেছেন। 

আরও পড়ুন- 'একটা ছেলের জন্য ৭-৮টা বাচ্চা' - নীতিশের 'অশালীন' আক্রমণ, ফুঁসছে লালু-রাবরির গ্রাম

জুন মাসেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অধিকার দাবি করে সরব হয়েছিলেন। তবে, বিহার নির্বাচনের মাঝে এই নিয়ে সরব হওয়ার পিছনে সকলেই ভোট রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন। কারণ, বিহারের এক বিশাল সংখ্যক যুবক সেনাবাহিনীতে কর্মরত। গত কয়েক বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে সেনাবাহিনীতে কর্মরত বিহারের অসংখ্য মানুষ শহিদ হয়েছেন। পাকিস্তানের জিগির তুলে এইসব শহিজ জওয়ানদের পরিবারের কাছ ভোট আদায় করাটাই মূল লক্ষ্য বলে এর আগেও দাবি করেছে কংগ্রেস ও আরজেডি। এমনকী আরজেডি-র তেজস্বী যাদব কিছুদিন আগেই এই জওয়ানদের পরিবারের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনা নিয়ে সরব হয়েছিলেন।