দশ বছর মানে এক দশক, ২০১০ থেকে ২০১৯ , দেশ  সাক্ষী থেকেছে অনেক উত্থান -পতনের। এই দশবছরে নানা আন্দোলন দেখেছে এই দেশ। কখনও ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে, কখনও আবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে, কখনও আবার গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে পথে নেমেছেন দেশের মানুষ। সাম্প্রতিক কালে নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি নিয়ে উত্তাল দেশ। চলুন দেখে নেওয়া যাক এক দশকে কোন কোন প্রতিবাদ আন্দোলন ছাপ রেখে গেছে ভারতে।


 তেলেঙ্গানা আন্দোলন (২০১০-২০১২)
অন্ধ্রপ্রদেশ কে ভেঙে তৈরি করতে হবে তেলেঙ্গনা রাজ্য। এই দাবিতেই টানা তিন বছর ধরনা দিয়েছিলেন কে চন্দ্রশেখর রাও, করেছিলেন আমরন অনশন। তারই ফলস্বরূপ ২০১৪ সালে গঠিত হল তেলেঙ্গনা রাজ্য। প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন তেলেঙ্গনা রাষ্ট্রী সমিতির কে.সি.আর।

 

 

উত্তরপ্রদেশে জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদ (২০১১)
উত্তরপ্রদেশ জুড়ে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছিল প্রতিবাদ আন্দোলন। 

দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন (২০১১)
লোকপাল ও লোকায়ুক্তের দাবিত্বে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। জন লোকপাল বিলের দাবিতে পরে এই আন্দোলনে যোগ দেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। তৎকালীম কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ইউপিএ সরকারকে হেলিয়ে দিয়েছিল এই আন্দোলন।

 

 

নির্ভয়া প্রতিবাদ (২০১২)
দিল্লির ২৩ বছরের তরুণীর পাশবিক গণধর্ষণের প্রতিবাদে ন্যায়বিচার চেয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল আন্দোলন। যার ফলে ধর্ষণ সংক্রান্ত আইন বদলাতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় সরকার।

 

 

কিস অফ লাভ প্রতিবাদ (২০১৪)
কেরলে পুলিশি জুলুমের বিরুদ্ধে প্রথম শুরু হয়েছিল এই আন্দোলন। পরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলনের ঢেউ।

আরও পড়ুন : মামাবাড়ি থেকে ফেরার পথে কিশোরীকে ধর্ষণ, বাইকে করে বাড়ি পৌঁছে দিল অভিযুক্তরাই

পতিদ্বার সংরক্ষণ আন্দোলন (২০১৫)
গুজরাতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দলনে নামেন প্যাটেল সম্প্রদায়ের মানুষ। সংরক্ষণের নামে বিজেপি ভুল বোঝাচ্ছে অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন হার্দিক প্যাটেল।

 

 

মারাঠা বিক্ষোভ (২০১৬-২০১৭)
চাকরি এবং শিক্ষার দাবিতে সংরক্ষণ চেয়ে পথে নামেন মারাঠারা। প্রথমে আন্দলোন শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে হিংসাত্মক রূপ নেয়।

জাঠ সংরক্ষণ আন্দোলন (২০১৬)
ওবিসি ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে  রাস্তা ও রেললাইন অবরোধ করেন জাঠ সম্প্রদায়ের মানুষজন।

আরও পড়ুন : বর্ষবরণে তিলোত্তমায় থাকছে না বৃষ্টির ভ্রুকুটি, আশার খবর শোনাচ্ছে হাওয়া অফিস

যাদবপুর ও জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন (২০১৪-২০১৬)
আফজল গুরুর ফাঁসির প্রতিবাদে পথে নামেন জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। এক কয়েকদিন পরেই দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করে কানহাইয়া কুমার ও উমর খালিদ। এর প্রতিবাদে পথে নামে জেএনইউ। পাশে দাঁড়ায় যাদবপুর সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা।

 

 

অশান্ত কাশ্মীর (২০১৬-২০১৭)
হিজবুল জঙ্গি বুরহান ওয়ানির হত্যার প্রতিবাদে অশান্ত হয়ে ওঠে কাশ্মীর। 

 

 

সাহারানপুর প্রতিবাদ (২০১৭)
উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে দলিত এবং রাজপুতদের মধ্যে শুরু হয় ঝামেলা। এই আন্দোলনের ফলশ্রুতি দলিত নেতা চন্দ্রশেখর আজাদের আত্মপ্রকাশ।

দিল্লিতে কৃষক ব়্যালি (২০১৮)
কেন্দ্রের কৃষিনীতির প্রতিবাদে দিল্লি চলোর ডাক দেন কৃষকরা। এই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা কৃষকরা।

 

 

ভীমা কোরেগাঁও প্রতিবাদ (২০১৮)
ভীমা কোরেগাঁওতে জাময়েত হয়েছিলেন দলিতরা। এই জমায়েতে উচ্চ বর্ণবাদীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ।

বিচারপতিদের বিদ্রোহ (২০১৮)
ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রকাশ্যে দেশের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে আঙুল তোলেন চার প্রবীণ বিচারপতি।  শীর্ষ আদালতে মামলা বণ্টন সংক্রান্ত বিষয়ে গরমিলের অভিযোগ তোলা হয়।

 

 

ভানিতা মাথিল (২০১৯)
সুপ্রীম কোর্টের রায়ের পরেও সবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ মহিলা একসাথে দাঁড়িয়ে “ভানিতা মাথিল বা নারীদের দেয়াল” নামে প্রায় ৬২০ কিলোমিটার মানব বন্ধন করে ১৫ মিনিটের এক মৌন প্রতিবাদ করেন। 

 

 

চিকিৎসকদের ধর্মঘট (২০১৯)
এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জুনিয়র চিকিৎসকদের মারধরের প্রতিবাদে ধর্মঘটে নামেন চিকিৎসকরা। যার জেরে স্তব্ধ হয়ে যায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা। সাত দিন ধর্মঘট চলার পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তারপর তুলে নেওয়া হয় ধর্মঘট।

 

 

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ (২০১৯)
কেন্দ্র সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাসের পর থেকেই রাজধানী দিল্লি সহ সারা দেশজুড়ে পথে নেমেছেন আন্দোলনকারীরা। সিএএ ও এনআরসির প্রতিবাদে শহর কলকাতাতেও হয়েছে মিছিল।