পাঞ্জাবের কাপুরথালায় এক মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, পুলিশের নজর এড়াতে ছোট ছোট বাচ্চাদের মাদকাসক্ত করে তাদের দিয়ে পাচার করাত সে।

পাঞ্জাবের কাপুরথালা পুলিশ এক মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে। জেরায় সে এক চাঞ্চল্যকর কথা স্বীকার করেছে। পুলিশের নজর এড়াতে সে ছোট ছোট বাচ্চাদের টার্গেট করত। প্রথমে তাদের মাদকের নেশা ধরাত, তারপর তাদের দিয়েই মাদক পাচারের কাজ করাত।

সম্প্রতি ১৩ বছরের এক কিশোরের মাদক নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ ওই কিশোর ও তার ১০ বছরের ভাইকে উদ্ধার করে সিভিল হাসপাতালের নেশামুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি করেছে।

এই দুই ভাই ঝুগিয়ান রাজপুর গ্রামের বাসিন্দা। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তাদের মা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পেটের দায়ে এই বাচ্চারা প্রায়ই গ্রামের অন্য পরিবারগুলোর কাছে খাবার চাইতে যেত।

Scroll to load tweet…

সুভানপুর থানার এসএইচও অমনদীপ নাহার জানিয়েছেন, অভিযুক্তের নাম পরমজিৎ সিং। হোশিয়ারপুরের বাসিন্দা এই ব্যক্তি এক মহিলাকে নিজের বোন পাতিয়ে ওই গ্রামে যাতায়াত করত।

জেরায় পরমজিৎ জানিয়েছে, প্রায় দু'সপ্তাহ আগে সে ওই বাচ্চাদের মাদক নিতে উসকানি দেয়। এমনকি সেই ঘটনার ভিডিও সে নিজেই রেকর্ড করেছিল।

এসএইচও বলেন, "সে বাচ্চাদের হেরোইন দিত। তার উদ্দেশ্য ছিল এদের দিয়ে মাদক পাচার করানো। কারণ এত ছোট বাচ্চাদের পুলিশ সহজে সন্দেহ করবে না।"

বুধবার সন্ধ্যায় ভাইরাল ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসে। রাতেই পরমজিৎকে গ্রেফতার করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় দুই শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেশামুক্তি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

পরিবারটির অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে নাহার বলেন, "গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই খুব গরিব। এই দুই বাচ্চা প্রায়ই গ্রামের অন্য বাড়ি থেকে খাবার চেয়ে খেত।"

পরমজিৎকে যে ব্যক্তি মাদক সরবরাহ করত, তাকেও চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এই মাদক পাচার চক্রের শিকড় কতদূর ছড়িয়ে আছে, তা জানতে তদন্ত চলছে।