রাঘব চাড্ডার বিজেপিতে যোগদানের জল্পনার মধ্যেই অরবিন্দ কেজরিওয়াল তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বললেন, বিজেপি আবার পাঞ্জাবিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল। অন্যদিকে, আপকে 'দুর্নীতিগ্রস্ত' ও 'আপসকামী' বলে দল ছাড়ার ঘোষণা করেছেন রাঘব।
Raghav Chadha union minister BJP: শুক্রবার দিল্লি আর পাঞ্জাবের রাজনীতিতে বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটল। আম আদমি পার্টির (আপ) অন্যতম প্রধান নেতা ও পাঞ্জাবের রাজ্যসভা সাংসদ রাঘব চাড্ডা দল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তাঁর সঙ্গে অশোক মিত্তল এবং সন্দীপ পাঠকও বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন, যা নিয়ে আপ-এর অন্দরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
এই গোটা ঘটনায় মুখ খুলেছেন আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ তিনি এক লাইনে লিখেছেন, “বিজেপি আবার পাঞ্জাবিদের সঙ্গে ধোঁকা দিল।” তাঁর এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আপ নেতৃত্ব এই ঘটনাকে শুধুমাত্র দলবদল হিসেবে দেখছে না, বরং পাঞ্জাবের রাজনীতির সঙ্গে একটি বড় বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেই মনে করছে।
'ভুল দলে থাকা সঠিক মানুষ ছিলাম', বললেন রাঘব
NDTV-র রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি সাংবাদিক বৈঠকে রাঘব চাড্ডা বলেন যে তিনি তাঁর জীবনের ১৫টা বছর আপ-কে দিয়েছেন, কিন্তু দলটা এখন সৎ রাজনীতির পথ থেকে সরে গিয়েছে। তিনি বলেন, “যে আপ-কে আমি ১৫ বছর দিয়েছি, তা এখন সৎ রাজনীতি থেকে অনেক দূরে। আমি ভুল দলে থাকা সঠিক মানুষ ছিলাম। এখন আমি দল থেকে দূরে গিয়ে মানুষের আরও কাছে যাচ্ছি। আজকের আপ দুর্নীতিগ্রস্ত আর আপসকামী হয়ে গিয়েছে।” রাঘব আরও জানান, রাজ্যসভায় দলের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সাংসদ বিজেপির সঙ্গে মিশে যাওয়ার পক্ষে এবং সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে।
৭ জন সাংসদের বিজেপিতে যোগদানের দাবি
রাঘব চাড্ডা দাবি করেছেন, আপের মোট ১০ জন রাজ্যসভা সাংসদের মধ্যে ৭ জনই বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। তাঁর কথায়, সমস্ত জরুরি নথিতে সই করে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় অশোক মিত্তল, সন্দীপ পাঠক, স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, বিক্রমজিৎ সিং সাহনি, বলবীর সিং সিচেওয়াল এবং সঞ্জীব অরোরার মতো নাম রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। এই দাবি সত্যি হলে, রাজ্যসভায় এটি আপ-এর জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হবে।
সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হতে পারেন রাঘব
NDTV-র রিপোর্ট অনুযায়ী, সূত্রের খবর, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাঘব চাড্ডাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে। যদি এমনটা হয়, তবে এটি শুধু দলবদল নয়, জাতীয় রাজনীতিতে একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবেই দেখা হবে।
পাল্টা আক্রমণ শানালেন সঞ্জয় সিং
আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং রাঘব চাড্ডার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “যে দল তাঁকে পরিচিতি দিল, রাজ্যসভায় পাঠাল, সেই দল ছেড়েই তিনি বিজেপির কোলে গিয়ে বসলেন।” সঞ্জয় সিং এই ঘটনাকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ বলে কটাক্ষ করে বলেন যে এটি আপ-এর নীতির পরিপন্থী।
আগেই ফাটলের ইঙ্গিত মিলেছিল
দলের ভেতরে যে মতবিরোধ বাড়ছিল, তার ইঙ্গিত আগেই পাওয়া গিয়েছিল। গত ২ এপ্রিল অরবিন্দ কেজরিওয়াল রাজ্যসভায় দলের ডেপুটি লিডারের পদ থেকে রাঘব চাড্ডাকে সরিয়ে অশোক মিত্তলকে সেই দায়িত্ব দেন। NDTV সূত্রের মাধ্যমে তখন জানিয়েছিল যে দল রাঘব চাড্ডাকে “চুপ করিয়ে” দিতে চেয়েছিল। এরপর থেকেই দুই শিবিরের মধ্যে দূরত্ব আরও স্পষ্ট হতে শুরু করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং আপ-এর অন্দরের গভীর অসন্তোষের প্রতিফলন।
পাঞ্জাব ভোটের আগে বড় ধাক্কা
এই পুরো ঘটনাটা এমন একটা সময়ে ঘটল, যখন আগামী বছরই পাঞ্জাবে বিধানসভা ভোট। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের নেতৃত্বে আপ সরকার দ্বিতীয়বারের জন্য মানুষের রায় চাইবে। পাঞ্জাবে আপ-এর জয়ের পিছনে রাঘব চাড্ডাকে অন্যতম প্রধান মুখ বলে মনে করা হত। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর দলত্যাগ ভোটের সমীকরণে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।


