লাদাখ পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকে ও পরে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছেন, চিন এখনও ভারতের জমি দখল করতে পারেনি। দেশের সীমানায় কেউ ঢুকতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রীর এই দাবির পরেই অবশ্য বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, চিনা সেনা ভারতীয় ভূখণ্ডে না ঢুকে থাকলে সংঘাত বাঁধল কেন তা নিয়ে। কেনই বা প্রাণ গেল ২০ জন জওয়ানের। এই অবস্থায়  লাদাখে গিলওয়ান উপত্যকায় চিনা বাহিনীর হামলা নিয়ে প্রথম থেকেই মোদী সরকারকে আক্রমণ করে চলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস সাংসদ এদিনও নিজের ট্যুইটারে লেখেন, চিনা সেনার কাছে আত্মসমর্পণ করে দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

রাহুল গান্ধী ট্যুইটারে প্রশ্ন তোলেন ওই জমি চিনের বলে আমাদের সেনাদের মরতে হল কেন? ভারতীয় জওয়ানরা ঠিক কোন অংশে শহিদ হয়েছেন? 

 

বৃহস্পতিবার  লাদাখ ইস্যুতে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে গোটা দেশের সামনে কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন  রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস সাংসদ ওই ভিডিওতে বলেন, "ভাই ও বোনেরা, ভারতের নিরস্ত্র সেনাদের হত্যা করে চিন একটি বিরাট বড় অপরাধ করেছে। তবে আমি জিজ্ঞাসা করতে চাই যে, এই বীরেদের নিরস্ত্র অবস্থায় বিপদের দিকে কে এবং কেন পাঠিয়েছে? এই ঘটনার জন্যে কে দায়ী? ধন্যবাদ"। শুক্রবারও সেই পথে হেঁটে রাহুলের অভিযোগ ছিল, ভারতীয় সরকার তিনা সেনাদের দুরভিসন্ধি বুঝতে ব্যর্থ হওয়ার মূল্য চোকাতে হল দেশের ২০ জন সেনা জওয়ানকে।

সোমবার রাতে গালওয়ান উপত্যকায় চিনা সেনার হামলায় কেবল ২০ জন ভারতীয় জোয়ান শহিদ হননি , আহত হয়েছেন ৭৬ জন জওয়ানও। বর্তমানে তাঁরা সকলেই স্থিতিশালী অবস্থায় রয়েছেন বলে সেনার তরফে শুক্রবারই জানান হয়েছে। এদিকে নিজের ট্যুইটারে রাহুল শুক্রবার একটি ভিডিও পোস্ট করেন। যেখানে গালওয়ানে আহত এক সেনার বাবার ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, সেনারা যখন সীমান্তে প্রাণ দিয়ে লড়ছেন তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা বাঁচাতে ব্যস্ত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে।

 

এই নিয়ে এদিন রাহুল গান্ধীকে শনিবার একটি ভিডিও বার্তা দেন ওই আহত সৈনিকের বাবা বলবন্ত সিং। তিনি "বলেন, ভারতীয় সেনা যথেষ্ট শক্তিশালী, চিনকে পরাস্ত করার ক্ষমতা আছে।" এই নীয়ে রাহুল গান্ধী যেন রাজনীতি না করেন। ছেলে সুস্থ হলে ফের ভারতীয় সেনার হয়ে দেশমাতার সেবা করবে বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দেন ওই আহত সৈনিকের বাবা।