Rahul Vs Rijiju: নরেন্দ্র মোদীকে ফের খোলা বিতর্কের চ্যালেঞ্জ রাহুল গান্ধীর। বিচারক হিসেবে মোহন ভাগবতকেও মেনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। বিদেশি সাহায্যের মন্তব্য নিয়ে রাহুলকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন কিরেন রিজিজু।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফের খোলা বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডলে লোকসভার বিরোধী দলনেতা লেখেন, প্রথম চ্যালেঞ্জের পর ২৪ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের দেশদ্রোহী বলেন, তাই যে কোনও মঞ্চ, যে কোনও জায়গা বেছে নিয়ে তাঁর সঙ্গে বিতর্কে বসার আহ্বান জানান রাহুল। তাঁর প্রশ্ন, দেশদ্রোহী কে? বিদেশি শক্তির সঙ্গে কার যোগ আছে? আর সেই যোগের ধরনটাই বা কী? "ডরো মত" বলে প্রধানমন্ত্রীকে খোঁচাও দেন তিনি।

রাহুল গান্ধীর চ্যালেঞ্জ

বিতর্কের রূপরেখাও বাতলে দিয়েছেন রাহুল। তাঁর কথায়, সেখানে মিডিয়া থাকবে, দেশের যুবকরা থাকবেন। একটি টেবিলের একদিকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী, অন্যদিকে তিনি। বিচারক কে হবেন, তা ঠিক করার ভারও প্রধানমন্ত্রীর হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। এমনকি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকেও বিচারক করার প্রস্তাব দেন কংগ্রেস নেতা।

Scroll to load tweet…

বিতর্কের বিষয়

রাহুলের দাবি, ওই বিতর্কে আর্থিক ব্যবস্থা ও কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তাঁর প্রশ্ন, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি কীভাবে হল, কেন হল, এত তাড়াতাড়ি কেন হল, শুধু প্রধানমন্ত্রীই কেন করলেন এবং মন্ত্রিসভাকে কেন জানানো হল না। আদানি মামলা কেন বন্ধ হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি এপস্টিনের প্রসঙ্গও তুলেছেন রাহুল। তাঁর কথায়, এমন আরও অনেক বিষয়ে খোলাখুলি আলোচনা হবে, "দুধ কা দুধ, পানি কা পানি" হয়ে যাবে।

রাহুলের কটাক্ষ

মানহানির মামলা নিয়েও প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য, অন্য বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫টি মানহানির মামলা করা হয়েছে, কিন্তু বিদেশি যোগের প্রশ্নে বিতর্কের বিষয়ে এখনও কোনও মানহানির মামলা হয়নি। তিনি বলেন, "করুন না, সেখানেও খোলাখুলি আলোচনা হবে।" পোস্টের শেষে প্রধানমন্ত্রীকে দীপাবলির শুভেচ্ছাও জানান তিনি।

এর আগে প্রথম পোস্টে প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন রাহুল। তিনি লিখেছিলেন, মোদী বিদেশি সাহায্যে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং বিদেশি সাহায্যেই সেই পদে রয়েছেন। তাঁর দাবি, দেশের আর্থিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণ ও সমর্থনে চলছে এবং বিদেশি সোশ্যাল মিডিয়া পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর পাশে। সেই পোস্টেই খোলা বিতর্কের চ্যালেঞ্জ দিয়ে তিনি লেখেন, সাহস থাকলে প্রধানমন্ত্রী আসুন, তবে তিনি আসবেন না, কারণ রাহুল তাঁর সম্পর্কে কী জানেন, তা নিয়ে তিনি ভীত।

রাহুলকে পাল্টা নিশানা কিরেন রিজিজুর

রাহুলের এই মন্তব্যের পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। এক্স-এ তিনি লেখেন, "ইসলামি মৌলবাদীদের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে কথা বলা, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ভারতীয় পতাকা ধরা আর নৈরাজ্যবাদীদের সংবিধান দেখানোর মতোই এটা।" রিজিজুর অভিযোগ, ভারতের শত্রুদের এজেন্ডা এগিয়ে দিয়ে অন্যদের বিরুদ্ধে বিদেশি সমর্থনের অভিযোগ তোলা নিজেকেই হাস্যকর করে তোলা। তিনি আরও লেখেন, উচ্চস্তরের বিতর্ক পরিণত মানুষদের মধ্যেই হয়।

বিতর্কের সূত্রপাত

এই চাপানউতোরের সূত্রপাত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি বক্তব্য থেকে। গুজরাটের স্ট্যাচু অফ ইউনিটিতে সর্দার বল্লভভাই পটেলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা গণতান্ত্রিক ভূমিকা পালন না করে বাধা সৃষ্টিকারী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এএনআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কিছু শক্তি দেশকে ভাগ করার ষড়যন্ত্র করছে। বিদেশে তাদের যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং বিদেশি শক্তির সমর্থনের অভিযোগ করেন।