অনলাইনে ওষুধ কেনার আগে কোন অ্যাপ নিরাপদ, কীভাবে বুঝবেন? জেনে নিন দেশের ১০টি নামী অনলাইন মেডিসিন অ্যাপের বৈশিষ্ট্য, ডেলিভারির এলাকা, আর ওষুধ হাতে পেয়ে কী কী মিলিয়ে দেখবেন।
ওষুধ এখন আর দোকানে গিয়ে কেনার বিষয় নয়, অ্যাপ খুলে অর্ডার করলেই পৌঁছে যায় দরজায়। দেশের লক্ষ লক্ষ পরিবারের কাছে অনলাইনে ওষুধ কেনা এখন নিত্যদিনের অভ্যাস। কিন্তু অ্যাপের সংখ্যা যত বাড়ছে, বাছাই করা ততই কঠিন হচ্ছে। ওষুধের ক্ষেত্রে শুধু দ্রুত ডেলিভারি বা ডিসকাউন্ট দেখলেই চলে না। আসল প্রশ্ন, ঠিক ওষুধটি আসল, সঠিকভাবে রাখা এবং সময়মতো আপনার হাতে পৌঁছচ্ছে কি না।
কোন অ্যাপ নিরাপদ, কীভাবে বুঝবেন
অনলাইনে ওষুধ কেনার আগে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত। প্রথমত, অ্যাপটির লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসি আছে কি না এবং প্রেসক্রিপশনের ওষুধের ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন যাচাই করা হয় কি না। দ্বিতীয়ত, ওষুধ সরাসরি প্রস্তুতকারক বা অনুমোদিত পরিবেশকের কাছ থেকে আসছে কি না। তৃতীয়ত, প্যাকেট সিল করা থাকে কি না এবং ব্যাচ নম্বর ও মেয়াদের তারিখসহ সঠিক বিল দেওয়া হয় কি না। চতুর্থত, বড় এলাকায় নির্ভরযোগ্য ডেলিভারির ব্যবস্থা আছে কি না। আর পঞ্চমত, কিছু গোলমাল হলে সহায়তা ও ফেরতের সুযোগ মেলে কি না।
নামী অ্যাপগুলির মধ্যে কোনটির কী বৈশিষ্ট্য
প্ল্যাটিনামআরএক্স: বেঙ্গালুরুভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্ম শুধু ওষুধ নিয়েই কাজ করে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড বা হার্টের রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুখে ভোগা মানুষ এর মূল লক্ষ্য। সংস্থার দাবি, তারা সিপলা, অ্যাবট, অ্যালকেমের মতো পরিচিত প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে সরাসরি ওষুধ সংগ্রহ করে, প্রতিটি অর্ডারে চার স্তরের মান যাচাই হয় এবং প্রেসক্রিপশন দেখে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্টরা ওষুধ দেন। প্রেসক্রিপশনের ব্র্যান্ডের সমান সল্ট, স্ট্রেংথ ও ধরনের একটি ব্র্যান্ডেড জেনেরিক বেছে দেওয়া হয়, ফলে মাসিক খরচ ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে বলে সংস্থার দাবি। নিজের পুরনো ব্র্যান্ডেই থাকতে চাইলে ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে অর্ডার করে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ও মেলে। ২০ হাজারের বেশি পিন কোডে ডেলিভারি হয়, মেট্রো শহরে একদিনে এবং অন্যত্র এক থেকে তিন দিনে।
ট্রুমেডস: মুম্বইভিত্তিক এই সংস্থা ২০১৯ সালে শুরু হয়। জেনেরিক ওষুধ বদলের আগে তাদের চিকিৎসক প্রস্তাবিত বিকল্পটি দেখে নেন এবং বদলের আগে বিনামূল্যে পরামর্শের সুযোগও থাকে। প্রেরণের আগে ফার্মাসিস্টও পরীক্ষা করেন।
টাটা ওয়ানএমজি: ওষুধ ছাড়াও এখানে মেলে ল্যাব টেস্ট, চিকিৎসকের পরামর্শ ও স্বাস্থ্যের নথি। অনেক ওষুধের ব্র্যান্ডেড ও জেনেরিক দুই সংস্করণই তালিকায় আছে, আর প্রতিটি পণ্যের পাতায় ওষুধ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।
ফার্মইজি: দেশের অন্যতম বড় অনলাইন ফার্মেসি। সংস্থার দাবি, তাদের ৫ কোটির বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী এবং ১৯ হাজারের বেশি পিন কোডে ডেলিভারি রয়েছে। প্রতি মাসে একই ওষুধ আবার অর্ডার করা এখানে সহজ, সঙ্গে ডায়াগনস্টিক পরিষেবাও আছে।
অ্যাপোলো ২৪|৭: অ্যাপোলো হাসপাতাল গোষ্ঠীর ডিজিটাল শাখা। সাড়ে ৬ হাজারের বেশি অ্যাপোলো ফার্মেসি থেকে ওষুধ আসে এবং কয়েকটি বড় শহরে ডেলিভারি হয় খুব দ্রুত। দরকার হলে অ্যাপোলোর চিকিৎসকের পরামর্শও নেওয়া যায়।
নেটমেডস: চেন্নাইভিত্তিক এই সংস্থা ২০১৫ সালে শুরু হয়। ২০২০ সাল থেকে এর বেশিরভাগ মালিকানা রিলায়েন্স রিটেলের হাতে। দেশের বহু পিন কোডে প্রেসক্রিপশন ও ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ পাঠায়।
অ্যামাজন ফার্মেসি: এটি একটি মার্কেটপ্লেস, যেখানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিক্রেতাদের সঙ্গে ক্রেতার যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। অ্যামাজনের ডেলিভারি নেটওয়ার্ক ব্যবহার হওয়ায় দূরের এলাকাতেও পৌঁছয়, ২৩টি শহরে একই দিনে ডেলিভারিও হয়। প্রেসক্রিপশনের ওষুধের জন্য বৈধ প্রেসক্রিপশন লাগে। যেহেতু বিভিন্ন বিক্রেতার কাছ থেকে ওষুধ আসে, তাই প্রতিটি অর্ডারে বিক্রেতার তথ্য দেখে নেওয়া ভাল।
মেডপ্লাস মার্ট: পাঁচ হাজারের বেশি দোকান নিয়ে দেশের অন্যতম বড় ফার্মেসি চেন। বাড়িতে ডেলিভারি নেওয়া যায়, আবার অনলাইনে বুক করে কাছের দোকান থেকেও ওষুধ তুলে নেওয়া যায়। দরকারে সামনাসামনি ফার্মাসিস্টের সঙ্গে কথা বলার সুবিধা থাকে।
প্র্যাকটো: চিকিৎসক বুকিং ও টেলিমেডিসিনের জন্য পরিচিত, নেটওয়ার্কে এক লক্ষের বেশি চিকিৎসক আছেন বলে দাবি। অনলাইন পরামর্শের পর ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন সরাসরি অর্ডারে চলে আসে, তাই আলাদা অ্যাপে যেতে হয় না।
ফ্র্যাঙ্ক রস ফার্মেসি: এমামি গোষ্ঠীর এই সংস্থা দেশের অন্যতম পুরনো ফার্মেসি চেন, পূর্ব ভারতে এর বড় নেটওয়ার্ক আছে। অনলাইন পরিষেবা আপাতত কলকাতা ও আশপাশের জেলায় সীমাবদ্ধ।
ওষুধ হাতে পেয়ে এই কয়েকটি জিনিস মিলিয়ে নিন
যে অ্যাপ থেকেই ওষুধ কিনুন, প্রতিবার ডেলিভারি নেওয়ার সময় কয়েকটি বিষয় দেখে নেওয়া জরুরি। প্যাকেট ঠিকঠাক সিল করা আছে কি না এবং কোথাও ছেঁড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত কি না। ওষুধ আসল স্ট্রিপ বা বোতলে আছে কি না, খোলা অবস্থায় আলগা আসেনি তো। ওষুধের নাম, সল্ট ও স্ট্রেংথ প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে মিলছে কি না। স্ট্রিপে ছাপা ব্যাচ নম্বর ও মেয়াদের তারিখ বিলের সঙ্গে মিলছে কি না। মেয়াদের তারিখ এত দূরে কি না যাতে কোর্স শেষ করা যায়। ইনসুলিনের মতো ওষুধ ঠান্ডা প্যাকে এসেছে কি না। আর ফার্মেসির লাইসেন্সের তথ্যসহ সঠিক বিল পেয়েছেন কি না। কিছু গোলমাল মনে হলে ওষুধ খাবেন না। প্যাকেট ও বিল রেখে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
এই প্রতিবেদনটি ভিএমপিএল-এর পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বিজ্ঞপ্তি। এর বিষয়বস্তুর দায় এশিয়ানেট নিউজ বাংলা-র নয়।




