নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের জন্য তৈরি দেশ। তার মাত্র কদিন আগে মঙ্গলবার ভারতীয় রেল হাওড়া-কালকা মেল-এর নাম বদলে 'নেতাজি এক্সপ্রেস' নামকরণ করল। এদিন রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ইতিমধ্য়েই দিয়ে দিয়েছে রেলমন্ত্রক। প্রসঙ্গত, নেতাজির ১২৫তম জন্মবার্ষিকী পালনের জন্য ইতিমধ্য়েই বিভিন্ন পরিকল্পনা করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।

আরও পড়ুন - মমতা থেকে বুদ্ধদেব-সৌরভ, নেতাজির ১২৫তম জন্মবার্ষিকীর জন্য ৮৫ সদস্যের কমিটি গড়লেন মোদী

রেলমন্ত্রক থেকে আরও জানানো হয়েছে, ১২৩১১/১২৩১২ হাওড়া-কালকা এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে 'নেতাজি এক্সপ্রেস' হিসাবে নামকরণ করে মন্ত্রক অত্যন্ত গর্বিত। তাদের মতে নেতাজির পরাক্রমই ভারতকে স্বাধীনতা ও উন্নয়নের 'এক্সপ্রেস রুটে' এনে দিয়েছিল। রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেছেন, রেলমন্ত্রক তাদের অন্যতম পুরোনো ট্রেনটির নাম 'নেতাজি এক্সপ্রেস' দিয়ে নেতাজির সেই 'পরাক্রম'কে শ্রদ্ধা জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নামকরণের ফলে তিনি 'শিহরিত' বলে টুইট করে জানিয়েছেন পীযুষ গয়াল।

আরও পড়ুন - নেতাজির অন্তর্ধান নিয়ে অনেক কিছুই জানতেন নেহেরু, চাঞ্চল্যকর দাবি তলোয়ার-এর বইয়ে

একইসঙ্গে মঙ্গলবার, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক জানিয়েছে, এই বছর থেকে প্রতি বছর ২৩ জানুয়ারি দিনটি, 'নেতাজির জাতির প্রতি অদম্য চেতনা ও নিঃস্বার্থ সেবা'কে শ্রদ্ধা জানাতে ও স্মরণ করতে, ভারত সরকার 'পরাক্রম দিবস' হিসাবে উদযাপন করবে। নেতাজি-র মতো দেশের যুব সমাজকে প্রতিকূলতার মধ্যে ধৈর্য সহকারে কাজ করার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করবে এবং তাদের মধ্যে দেশপ্রেমের উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলবে পরাক্রম দিবস, এমনটাই আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন - নেতাজি-র ১২৫তম জন্মবার্ষিকী পালনের বিরাট পরিকল্পনা, অমিত শাহ-র নেতৃত্বে তৈরি হচ্ছে কমিটি

আসন্ন ২৩ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি - এই একবছর সময়কাল ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী যথাযথভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এর জন্য ইতিমধ্যেই নরেন্দ্র মোদীকে মাথায় রেখে ৮৮ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এই কমিটিতে বাংলা, ওড়িশা ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ক্রীড়া, সংস্কৃতি, রাজনীতি, ইতিহাস মহলের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং নেতাজীর পরিবার ও আজাদ হিন্দ বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে।