পুরোনো নোট জমা দেওয়ার জন্য বা এটিএম-ব্যাঙ্ক থেকে নগদ অর্থ তোলার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা লাইন দেওয়া। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের সেই দুর্বিসহ স্মৃতি মানুষের মন থেকে এখনও মুছে যায়নি। এর মধ্যেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ায় দেওয়া এক তথ্যে সেই দুর্ভোগ ফের ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় করা এক প্রশ্নের জবাবে আরবিআই জানিয়েছে চলতি আর্থিক বছরে নতুন চালু হওয়া ২০০০ টাকার একটিও নোট ছাপা হয়নি।  

আরবিআই-এর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৮-১৯ সালে ২,০০০ টাকার নোটের পরিমাণ ৩৬৬.৩ কোটি থেকে কমে ৩২৯.১ কোটি-তে নেমে এসেছে। যা বাজারে চালু থাকা নোটের মাত্র ৩ শতাংশ। মূল্য বিচারে ২০১৭-১৮তে ২০০০ টাকার নোটের মোট অর্থমূল্য় ছিল ৬.৭২ লক্ষ কোটি টাকা। যা বাজারে চালু থাকা নোটের মোট অর্থমূল্যের ৩৭.৩ শতাংশ ছিল। এক  বছর পর সেই পরিমাণ নেমে দাঁড়িয়েছে ৬.৫৮ লক্ষ কোটি টাকা, বাজারে চালু নোটের মোট অর্থমূল্যের ৩১.২ শতাংশ। অর্থাৎ, ধীরে ধীরে বাতিলের পথে এগোচ্ছে ২০১৬-তে আত্মপ্রকাশ করা ২০০০ টাকার নোট।

২০০০ টাকার নোট ছাপা বন্ধ হওয়ার পিছনে রয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেটিং এজেন্সি বা এনআইএ-র তদন্ত রিপোর্ট। গত সোমবার (১৪ অক্টোবর)-ই  এক বৈঠকে মোট ৬টি বিষয়কে তাদের সামনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এনআইএ। তারমধ্যে অন্যতম জাল বা ভূয়ো নোটের মোকাবিলা করা। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী বাজার ছেয়ে গিয়েছে উচ্চমানের ২০০০ টাকার জাল নোটে। ছট করে এই নোটগুলিকে নকল বলে চেনা সম্ভব নয়। আর এই কারণেই আরবিআই ২০০০ টাকার নোট ছাপা বন্ধ করে দিয়েছে।

২০১৬-র সেপ্টেম্বরে নোট বাতিলের সময় মোদী সরকার এর অন্যতম লাভ হিসেবে জাল নোটের কারবার বন্ধ হওয়ার দাবি করেছিল। কিন্তু বছর তিনেক যেতে না যেতেই সেই দাবি যে অন্তঃসারশূন্য ছিল তা একরকম প্রমাণিত হয়ে গেল। এর পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক ও সমীক্ষা সংস্থার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে বিমুদ্রাকরণই ভারতের বর্তমান আর্থিক মন্দা ও কর্মহীনতার অন্যতম কারণ। আরবিআই-এর তথ্যে এবার দেখা গেল জাল নোটের কারবারও বন্ধ হয়নি। কাজেই নোট বাতিল করে লাভের লাভ কী হল, সেই পুরোনো প্রশ্নটাই ফের উঠছে। সেই সঙ্গে জনমানসে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, এবার কি তাহলে ২০০০ টাকার নোট ফের বাতিল করা হবে?