প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ১৯৪৭ সালে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের পরামর্শ শুনলে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে পর্যটকদের উপর হামলা সহ অন্যান্য সন্ত্রাসী ঘটনা এড়ানো যেত। 

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন যে, ১৯৪৭ সালে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের পরামর্শ শুনলে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে পর্যটকদের উপর ২২ মে-এর হামলা সহ অন্যান্য জঙ্গি হমলার ঘটনা এড়ানো যেত। গুজরাটের গান্ধীনগরে একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্যাটেলের পরামর্শ ছিল পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে লড়াই চলিয়ে যেতে হবে। সেনাবাহিনীকে থমানো যাবে না। "১৯৪৭ সালে, ভারতমাতাকে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলা হয়েছিল। কাটনি চাইছিলো শৃঙ্খল, কিন্তু কেটে ফেলা হলো ভুজ। দেশকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছিল, এবং সেই রাতেই কাশ্মীরের মাটিতে প্রথম সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছিল," মোদী বলেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত বিভাগের সময় পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদীদের, যাদের তিনি মুজাহিদীন বলে অভিহিত করেছেন, ব্যবহার করে ভারতের একটি অংশ দখল করে নিয়েছিল। "সেই দিন যদি এই মুজাহিদীনদের নির্মূল করা হতো এবং সর্দার প্যাটেলের ইচ্ছা ছিল যে পিওকে ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের সেনাবাহিনী থামবে না। কিন্তু কেউ তার কথা শোনেনি এবং আমরা গত ৭৫ বছর ধরে এই (সন্ত্রাসবাদের) সম্মুখীন হচ্ছি। পহেলগাঁও- এর জঙ্গি হামলা একটি উদাহরণ। যখন আমাদের পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ হয়েছিল, আমরা তিনবার পাকিস্তানকে পরাজিত করেছি..." "...শরীর যতই সুস্থ হোক না কেন, একটি কাঁটা বিঁধলেও পুরো শরীর অস্থির থাকে। এখন আমরা ঠিক করেছি সেই কাঁটা বের করেই ছাড়বো..." বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

প্রধানমন্ত্রী মোদী পাকিস্তানের সরাসরি যুদ্ধে ভারতকে পরাজিত করতে না পারা এবং প্রক্সি যুদ্ধের দিকে ঝোঁকার বিষয়টিও তুলে ধরেন। "যখন পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন ভারতের সামরিক শক্তি তিনবারই পাকিস্তানকে পরাজিত করে। পাকিস্তান বুঝতে পেরেছে যে তারা যুদ্ধে ভারতকে পরাজিত করতে পারবে না। তারা ভারতের বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধ শুরু করেছে। তারা সুযোগ পেলেই আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, আর আমরা তা সহ্য করে যাচ্ছি," তিনি আরও বলেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপারেশন সিদুঁরের পর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী মোদী দুই দিনের সফরে গুজরাটে গেছেন। আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী গান্ধীনগরে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে একটি রোড শো করেন।