দিল্লির হাইকোর্টে ৬ সপ্তাহের জন্য রেহাই পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু স্বস্তি মিলল না সুপ্রিম কোর্টে। আগামী বুধবারই হবে বিজেপি নেতাদের ঘৃণ্য মন্তব্যের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি। জানিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে বিজেপি নেতাদের করা  ঘৃণ্য মন্তব্যের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার শোনা হবে আগামী বুধবার। কিন্তু একদম উল্টো রাস্তায় হেঁটেছিল দিল্লি হাইকোর্ট। গত সপ্তাহেই দিল্লির হাইকোর্ট অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চার সপ্তাহ সময় দিয়েছিল। 

আরও পড়ুনঃ দলজিতের সঙ্গে তাজ দর্শন থেকে সাইকেলে চড়ে ভ্রমণ, ভারতীয়দের সৃজনশীলতায় মুগ্ধ ইভাঙ্কা

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে শাহিনবাগ, জামিয়াসহ দিল্লির বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন নাগরিকরা। রাস্তা আটকে দিনের পর দিন চলছিল অবস্থান বিক্ষোভ। আর এই  বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গেরুয়া শিবির থেকে উড়ে এসেছে একের পর এক ঘৃণ্য মন্তব্য। কখনও গুলি মারার কথা বলা হয়েছে। কখনও প্রতিবাদীদের দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আর এই ঘৃণ্য মন্তব্য করার অভিযোগে ১০ বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে মামলা। যারমধ্যে রয়েছে কপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুরের নামও। 

আরও পড়ুনঃ আখের লোভ দেখিয়ে ২টি শিশুর ওপর পাশবিক অত্যাচার, কাঠগড়ায় প্রৌঢ় প্রতিবেশী

প্রবীণ সমাজকর্মী হর্ষ মন্দার জানিয়েছেন, পাঁচ জন নির্যাতিতের  অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রথমে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।  সেই মামলার শুনানি এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিচারপতি বদলি হয়ে যাওয়ার প্রায় ৬ সপ্তাহ পরে মামলার শুনানি হবে বলে একটি নোটিশ জারি করেছে দিল্লি হাইকোর্ট।  মামলাটি যেথেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাই তাঁরা ন্যায় বিচারের জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন । হর্ষ মন্দারের কথায় দিল্লির হিংসা এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে প্রতিদিন গড়ে দশ জনের মৃত্যু হয়েছে। অ্যাডভোকেট কলিন গনসালভেস বলেছেন গত রাত্রেরও  ঘটেছে মৃত্যুর ঘটনা। এই অবস্থায় দিল্লি হাইকোর্ট ক্রমশই পিছিয়ে দিচ্ছে মামলার শুনানি।  

আরও পড়ুনঃ শীতের পর বসন্তেও জারি আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা, কলকাতা সহ রাজ্যে ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা

অভিযোগ, বিজেপির নেতাদের লাগাতার উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরেই  গত সোমবার থেকে উতপ্ত হতে শুরু করে রাজধানী। তিন  দিন ধরে উত্তাল হয়ে উঠেছিল উত্তর পূর্ব দিল্লি। হিংসার কালো বাতাসে ছেয়ে গিয়েছিল রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকা। এখনও পর্যন্ত চরম হিংসার বলি ৪৬ জন। হিংসায় সর্বশান্ত হয়েছেন বহু মানুষ। রুজিরুটি বন্ধ হওয়ায় অনেক মানুষই চূড়ান্ত অসহায়। তাণ্ডব চালানো হয়েছিল একাধিক স্কুলেও। স্কুলের সম্পত্তি ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এখনও শতাধিক পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।