সারা দেশ যখন প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে মেতেছে, তখন একেবারে শ্মশানের স্তব্ধতা বিরাজ করছে অসম জুড়ে। একে রবিবার (২৬ জানুয়ারি) প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনটিতেই রাজ্যে ধর্মঘট ডেকেছে আলফা জঙ্গিরা। তার উপর সকাল সকালেই পাঁচ-পাঁচটি বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে উত্তর পূর্বের এই রাজ্য। তারপর থেকে একেবারে শুনশান রাস্তাঘাটে শুধুমাত্র দেখা যাচ্ছে নিরাপত্তা কর্মীদের।

রবিবার সকালে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে ডিব্রুগড়ে। প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছে অবস্থিত গ্রাহাম বাজারের একটি দোকানে। দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ডিব্রুগড়ের গুরুদ্বারের কাছে এবং অপর একটি বিস্ফোরণ ঘটে দুলিয়াজন থানার কাছে। এছাড়া আরও দুটি বিস্ফোরণ ঘটেছে তিনসুকিয়া জেলার ডুম ডুমা শহরে এবং চরাইদেও জেলার সোনারী শহরে।

ডিব্রুগড়ে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। অসমের ডিজিপি ভাস্করজ্যোতি মোহান্ত বলেছেন, তাঁদের কাছে ডিব্রুগড়ের বিস্ফোরণের তথ্য এসেছে। সেইমতো তদন্তও শুরু হয়েছে। কেউ এখনও এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি। কাজেই এর পিছনে কে বা কারা জড়িত প্রথমে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তাঁদের সন্দেহ আলফা জঙ্গি গোষ্ঠীকেই, তাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, তাঁদের প্রাথমিক তদন্তও সেইদিকেই ইঙ্গিত করছে।

এদিকে এই ঘটনার পর তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে অসমম জুড়ে। নিরাপত্তা কর্মীরা মনে করছেন আরও বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তাই অসমের সবকটি জেলাতেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। রাস্তায় সাধারণ মানুষের দেখা নেই বললেই চলে। দোকানপাট বনধের কারণে আগে থেকেই বন্ধ ছিল। যে কয়েকটি খুলেছিল, তাও বিস্ফোরণের খবর আসতেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত বিস্ফোরণে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অসমের মুখ্য়মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সর্বানন্দ সোনোয়াল এই বিস্ফোরণের ঘটনার নিন্দা করেছেন। তাঁর মতে এটা একেবারেই কাপুরুষোচিত কাজ। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তাঁর দাবি এই নাশকতার পরও জনগণের অংশগ্রহণে ৩৩টি জেলাতেই যথাযথভাবে প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপিত হয়েছে। এরজন্য অসমের শান্তিপ্রিয় মানুষকে তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।