শাহিনবাগ  আন্দোলনের অন্য়তম উদ্য়োক্তা শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে এবার দেশদ্রোহিতার মামলা করল অসম সরকার।

জেএনইউয়ের ইতিহাসের ছাত্র  শারজিলের বিরুদ্ধে অসম পুলিশ একটি এফআইআর রুজু করেছে ইউএপিএ আইনে। অভিযোগ, সম্প্রতি  শারজিল বলেছিলেন যে, অসমকে দেশের বাকিং অংশের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হোক। অসমের মন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা অভিযোগ করেছেন, শাহিনবাগে হল প্রথম দৃষ্টান্ত যেখানে মুসলিমরা হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ ও বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। শারজিলের বিরুদ্ধে এফআইআর করা নিয়ে শনিবার হেমন্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সরকার নিশ্চিত যে শারজিল এই মন্তব্য় করেছেন। তাই ওঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।

হেমন্তের কথায়, "আমার মধ্য়ে দেশে এই প্রথম মুসলিমরা হিন্দুদের বিরুদ্ধে, খ্রিস্টান, শিখ ও বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। কিন্তু মুসলিমরা যখন পৃথক দেওয়ানি আইনের মতো  বিশেষ অধিকার পেয়েছে তখন আমরা কিন্তু তার প্রতিবাদ করিনি।"

আলিগড় পুলিশের জানিয়েছে, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্য়ালয়ে এ মাসের গোড়ার দিকে শারজিল অসমকে বিচ্ছিন্ন করার কথা বলেছিলেন। সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ উমেশ কুমার বলেন,  "শারজিলের বক্তব্য়ের ওই ভিডিয়ো সোশাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং হয়। যেখানে শারজিলকে  দেশবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়।১৬ জানুায়ির আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্য়ালয়ে এই প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য় রাখেন শারজিল। আমরা তদন্ত চালাচ্ছি।"

আইআইটির প্রাক্তন পড়ুয়া শারজিল বর্তমানে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্য়ালয়ের রিসার্চ স্কলার। দ্য় ওয়ার, দ্য় কুইন্টের মতো নামজাদা নিউজ পোর্টালের নিয়মিত কলামনিস্ট যে শাহিনবাগের মূল উদ্য়োক্তা, তা সম্ভবত এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত অনেকেই জানেন না।  হিন্দি, উর্দু ও ইংরিজি সংবাদপত্রের নিয়মিত লেখক শারজিল ইমাম কিছুদিন আগে ঘুরে গেলেন আসানসোল থেকে। গত ৪৫ দিন ধরে বাড়িছাড়া হয়ে রয়েছেন শারজিল।

নিউজ চ্য়ানেল রিপাবলিক সম্প্রতি শারজিলকে নিয়ে একটি স্টিং অপারেশন করেছে। প্রমাণ করতে চেয়েছে, শাহিনবাগ আসলে শারজিলের হাতে তৈরি, তা কোনও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন নয়। হাতেগোনা হলেও কিছু নিউজ পোর্টালে শারজিলকে নিয়ে কিছু স্টোরি  করেছে। তবে মূলস্রোতের মিডিয়া সে অর্থে শারজিলকে নিয়ে নীরব।

কীভাবে একদিনের চাক্কাজ্য়ামকে পুরোদস্তুর শাহবাগ আন্দোলনে পরিণত করলেন শারজিল, তা-ও কিন্তু কম বিতর্কের নয়। শারজিলের কথায়--  ডিসেম্বরের ৫ তারিখে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন যে পরেরদিন সিএএ  নিয়ে পামফ্লেট বিলি করবেন।  সেইমতো  ১০ থেকে ১৫ হাজার পামফ্লেট ছাপানো হয়। জেএনইউ থেকে ৬০ কি ৭০ জন পড়ুয়া এসে জড়ো হন। ওঁরা  বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে চলে যান পুরনো দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় যান। শারজিল নিজে যান নিজামুদ্দিনে।  আর এভাবেই শুরু হয় পুরো আন্দোলন।

অভিযোগ, অযোধ্য়া মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সংবিধান পুড়িয়ে দেওয়ার কথাও নাকি শোনা যায় শারজিলের মুখে।  এমনকি, আলিগড় বিশ্ববিদ্য়ালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে  এই ছাত্রনেতাকে  রীতিমতো প্ররোচনামূলক বক্তব্য় রাখতেও শোনা যায়। তিনি নাকি বলেন, মুসলিমদের কি এটুকুই হিম্মত নেই যে উত্তর ভারতের কিছু অংশ অচল করে দিতে পারেন তাঁরা। তবে তাঁকে নিয়ে যেটুকু-যা জানা যায়, তা গেরুয়া শিবিরের সৌজন্য়েই।

শাহিনবাগ আন্দোলন প্রত্য়াহার করে নেওয়ার ডাক দিয়ে কিছুদিন আগে ফেসবুকে পোস্ট করেন শারজিল। তাতেও বিতর্ক কিছু কম হয় না। জেএনইউয়ের এই স্কলারের বক্তব্য় ছিল, আন্দোলন এথন এমন কিছু লোকের হাতে চলে গিয়েছে যে তাকে প্রত্য়াহার করে নেওয়াই শ্রেয়।

গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য়, শাহিনবাগ আন্দোলন সে অর্থে স্বতঃস্ফূর্ত বা অরগ্য়ানিক কিছু নয়। তা আপনাআপনি গড়ে ওঠেনি। বরং তা  শারজিল ইমামের মতো ছাত্রনেতার  হাতে 'তৈরি' হয়েছে।

এদিকে শাহিনবাগের প্রতিবাদীদের সরকারি টুইটার বলে দাবি করে একজায়গায় বলা হয়েছে, তারা শারজিলের এই মন্তব্য় থেকে নিজেদের দূরে রাখতে চাইছে। তাছাড়া মিডিয়ার একাংশ ও গেরুয়া শিবির যেভাবে শারজিলকেই শাহিনবাগের একমাত্র উদ্য়োক্তা হিসেবে দেখাতে চাইছে, তা আদৌ সঠিক নয়। এই আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছে মহিলাদের উদ্য়োগে।