ইতিমধ্যেই সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশি জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যসভায় বিরোধী আসন বরাদ্দ করা হবে শিবসেনার জন্য। আর তার পরই পাল্টা জবাবটা এল শিবসেনা শিবির থেকে। বিজেপি-কে কটাক্ষ করে শিবসেনাও বলে দিল, এনডিএ কোনও একটি দলের সম্পত্তি নয়। 

এনডিএ-র শরিক দলগুলির মধ্যে শিবসেনাই বিজেপি-র সবথেকে পুরনো বন্ধু। কিন্তু মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে কাজিয়ার জেরে দুই দলের বিচ্ছেদ এখন সময়ের অপেক্ষা। 

সরকার গঠনে মরিয়া শিবসেনা কংগ্রেস, এনসিপি-র মতো বিজেপি বিরোধী দুই দলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিবসেনাকে সংসদে বিরোধী শিবিরে পাঠিয়ে বিচ্ছেদের চূড়ান্ত বার্তাটা হয়তো বিজেপি-ই দিয়েছিল। তবে শিবসেনাও জবাব দিয়ে বুঝিয়ে দিল, এনডিএ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে তাতে আরও ফাটল ধরানোরই চেষ্টা করবে তারা। 

রবিবারই এনডিএ-র শরিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পরেই তিনি টুইটারে লেখেন, 'এনডিএ একটি বৃহৎ পরিবারের মতো। ছোট ছোট মতপার্থক্য সেখানে বড় বাধা হয়ে যেন দেখা না দেয়।'

আরও পড়ুন- রাষ্ট্রপতি শাসনের আড়ালে বিধায়ক কেনা বেচা, বিজেপিকে তুলোধনা শিবসেনার

আরও পড়ুন- বালাসাহেব কে কি ছিনতাইয়ের কৌশল বিজেপির, মহারাষ্ট্রে নয়া বিতর্কের ইঙ্গিত

প্রধানমন্ত্রী এনডিএ শরিকদের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেও ক়ড়া জবাব দিয়েছেন শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত। মুম্বইতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এনডিএ কোনও একটি দলের সম্পত্তি নয়। কটাক্ষ করে বিজেপ নেতা বলেন, এনডিএ তে এখন যে দলগুলি রয়েছে, সেগুলি আসলে সবই 'পেয়িং গেস্ট'। বিজেপি-কে আক্রমণ করে শিবসেনা নেতা আরও অভিযোগ করেন, অতীতের সঙ্গে এখনকার এনডিএ-র অনেক পার্থক্য। সঞ্জয় রাউতের অভিযোগ, পিডিপি-র মতো দেশবিরোধী দলকেও এনডিএ- তে নিয়ে এসেছে বিজেপি। তিনি বলেন, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং এলজেপি নেতা রামবিলাস পাসওয়ানও প্রধানমন্ত্রী বিরোধী কথা বলেছেন। তার পরেও তাঁরা এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে যাননি। 

রাজসভায় সাংসদদের আসন বন্টন বদলে দিয়ে যেভাবে শিবসেনাকে বিরোধী আসনে পাঠানো হয়েছে, তার পর এনডিএ-র অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন শিবসেনা সাংসদ। 

তিনি বলেন, 'এনডিএ- র অস্তিত্বই এখন সংকটে। এনডিএ-র উপরে কোনও একটি দলের অধিকার নেই। বিভিন্ন সময়ে অনেক দল এই জোটের শরিক হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেরই মতাদর্শ এক ছিল না। তা সত্ত্বেও তারা সেই জোটে থেকে গিয়েছে।'