বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট থেকে শিবসেনাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারই নিন্দায় সরব হয়েছে শিবসেনা।  শিবসেনার মুখপত্র সামনা তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে,  যে সময় বালাসাহেব ঠাকরে এনডিএ জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন, তখন হিন্দুত্বের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।  মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে বিজেপির সঙ্গে শিবসেনার মতোবিরোধ দেখা দেয়। এরপরেই শিবসেনা কংগ্রেস ও এনসিপির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে উদ্যোত হয়। 

শিবসেনার মুখপত্র সামনার সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, বালাসাহেব ঠাকরের মত্যুবার্যিকীতে  শিবসেনাকে ডিএনএ জোট থেকে সরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। সামনার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বালাসাহেব ও অন্যান্যরা এমন সময়ে এনডিএ গঠন করেছিলেন, যখন কেউ রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের কথা বলেননি। 

শিবসেনার মুখপত্র  সামনা তাদের প্রবন্ধে জানিয়েছে, কোনও ধরনের আলোচনা না করেই শিবসেনাকে এনডিএ জোট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা একটা স্বৈরাচারীর নিদর্শন।  শিবসেনাও প্রতিজ্ঞা করেছে মহারাষ্ট্র থেকে এই ধরনের হিংসাত্মক মানুষের অস্তিত্ব শেষ করবে।  সামনা তাদের সম্পাদকীয়তে দাবি করেছে, কোনওভাবেই শিবসেনা চুপ করে বসে থাকবে না।  মহারাষ্ট্রে তারা লড়াই শুরু করবে।  এদিন সামনা ঘোরি রাজবংশের মুহাম্মদ ঘোরির সঙ্গে বিজেপির তুলনা করে। সামনার বলা হয়, আমরা পৃথ্বীরাজ চৌহানের মতো একই ভুল করেছি। ঘোরি তাঁকে ১৭ বার পরাজিত করেছিলেন। তারপরেও ঘোরিতে তিনি বাঁচিয়েছিলেন। বিনিময়ে পৃথ্বীরাজ চৌহানকে ১৮ বারের জন্য বন্দি করেছিলেন সুলতান ঘোরি। 

সামনাতে বলা হয়েছে,  আমাদের সঙ্গে ভুল হয়েছে। কিছু মানুষের পাশে যখন কেউ ছিল না, তখন আমরা পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। এখন আমাদের পিছনের ছোড়া মারা হল। এনডিএ থেকে সরানোর সময় শিবসেনাকে একটা শোকজ নোটিশও পাঠানো হয়নি বলে সামনায় সম্পাদকীয়তে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্য দিকে, মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের বিজেপি যেন তেন প্রকারে চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করছে শিবসেনা। শিবসেনার  অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি শাসনের নীচে মহারাষ্ট্রে বিধায়ক কেনা বেচার চেষ্টা শুরু করেছে বিজেপি। শিবসেনার মুখপত্র সামনাতে  মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের একটি মন্তব্যকে কটাক্ষ করেছে। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে তিনি মন্তব্য করেন, এনসিপি, কংগ্রেস ও শিবসেনার জোটে মহারাষ্ট্র সরকার ছয় মাসের বেশি টিকবে না। সেই মন্তব্যকে কটাক্ষ করে সামনার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মহারাষ্ট্রে নয়া জোট অনেকের মাথা ব্যাথার কারণ হয়েছে।