সারা দেশের সঙ্গে উত্তরখণ্ডেও বাড়ছে করোনা সংক্রমণ পরিযায়ী শ্রমিকদের থেকেই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে দেবভূমিতে করোনা সংক্রমণ রুখত সরকারি আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ সেই প্রশিক্ষণ শিবির চলার মাঝেই ঘটল বিপত্তি

সারা দেশের মতই উত্তরখণ্ডেও প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। সোমবার রাজ্যটিতে নতুন করে ১৫ জনের শরীরে সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে। ফলে উত্তরাখণ্ডে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩২। প্রশসান দাবি করছে নতুন আক্রান্তদের অধিকাংশই পরিযায়ী শ্রমিক। যারা মুম্বই, পঞ্জাব, গাজিয়াবাদ, গুরুগ্রাম ও নয়াদিল্লি থেকে গত কয়েকদিনে রাজ্যে ফিরেছেন। এদিকে রাজ্যের উধমনগর জেলায় সরকারি আধিকারিকদের নিয়ে কোভিড ১৯ সিটি রেসপন্স দলের প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছিল প্রশাসন। সেখানেই ট্রেনিং চলাকালীন মৃত্যু হল এক সরকারি আধিকারিকের।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কিচ্ছা পুরসভায় কোভিড-১৯ সিআরটি দলের নেতৃত্বে ছিলেন রুদ্রপুরের পাবলিক ওয়ার্কস ডিপারমেন্টের অ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার যশয়ন্ত সিং। অন্য রাজ্য থেকে আসা পরিযায়ীদের নথিপত্র দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন ৪৭ বছরের যশয়ন্ত। সহকর্মীরা জানিয়েছিন, প্রশিক্ষণ চলাকালীন চোখ বন্ধ করে যশয়ন্ত কে চোয়ারে বসে থাকতে দেখেন তাঁরা। সকলে ভেবেছিলেন প্রশিক্ষণের মাঝেই ঘুমিয়ে পড়েছেন তিনি। কিন্তু ট্রেনিং শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও যশয়ন্ত কে এক অবস্থায় বসে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় তাঁদের। তাঁকে ধাক্কা দিতেই পড়ে যান যশয়ন্ত। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ওই সরকারি আধিকারিককে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। 

কিচ্ছা পুরসভার ডেটা অপারেটার প্রবীণ সিং জানান, " প্রশিক্ষণের শুরুতেই অসুস্থ বোধ করছিলেন বলে জানিয়েছিলেন যশয়ন্ত, রুদ্রপুরের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার সারা রাত ডিউটি করার পর ক্লান্ত ছিলেন তিনি। কিন্তু প্রশিক্ষণ ছেড়ে চলে যেতে চাননি তিনি। তাই ট্রেনিং চলাকালীন চোখ বন্ধ করে থাকায় অন্যান্য সহকর্মীরা ভেবেছিলেন ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন যশয়ন্ত।" 

প্রবীণ আরও জানান, " প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পরও তিনি একই জায়গায় বসে থাকায় আমরা তাঁকে জাগানোর চেষ্টা করি। অনেকে জ্ঞান ফেরাতে তাঁর চোখে-মুখে জলের ছিটেও দেন। এরপরেই সরকারি হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মৃত বলে ঘোষণা করা হয় তাঁকে। " 

প্রশাসনের উচ্চতর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি যশয়ন্ত সিং-এর পরিবারকেও পুরো বিষয়টি জানান হয়েছে। যশয়ন্তের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠান হয়েছে। সেই রিপোর্ট আসলেই ওই সরকারি আধিকারিকের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন কিচ্ছা থানার ইন চার্জ উমেশ মালিক।