এবারের লোকসভা নির্বাচনে স্মৃতি ইরানির সঙ্গে সবসময়ের প্রচারসঙ্গী ছিলেন বিজেপি কর্মী সুরেন্দ্র সিং। শনিবার রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় সুরেন্দ্রকে গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। সেই সুরেন্দ্রর অন্ত্যেষ্টি যাত্রায় কাঁধ দিলেন খোদ স্মৃতি ইরানি। সঙ্গে জানালেন দোষীদের মৃত্যুদণ্ড চান তিনি। 

স্মৃতি সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান, দোষীদের শাস্ত দিতে প্রয়োজনে তিনি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাবেন।  স্মৃতি বলেন, সুরেন্দ্র সিংএর পরিবারের কাছে শপথ করেছেন যে তিনি দোষীদের মৃ্ত্যুদণ্ড দিতে সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হবেন। 

এদিন শেষযাত্রায় রাহুল গান্ধীকেও নাম না করে কটাক্ষ করেন স্মৃতি। তিনি বলেন , আমেঠিকে ভালোবেসে সামলানোর বার্তা পেয়েছি এক জনের থেকে। তাঁকে বলছি, আমি সেই কথা জোরেই শুনতে পেয়েছি।

অন্যদিকে বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বিভাজন তৈরি করতেই সুরেন্দ্রকে খুন করা হয়েছে। আতঙ্ক ছড়াবেন না। সংযম রাখুন। সুরেন্দ্রকে উৎসর্গ করে আমেঠিতে উন্নয়ন হবে। 

শনিবার নিজের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন সুরেন্দ্র সিং। তখন তাঁর বাড়িতে দুষ্কৃতীরা ঢুকে তাঁকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে। সুরেন্দ্রর মৃত্যুর খবর পেয়েই বারাউলি গ্রামে চলে আসেন আমেঠির নতুন সাংসদ। নির্বাচনে নিজের সবসময়ের সঙ্গীর মৃত্যু দেখে ভেঙে পড়ে স্মৃতি। সুরেন্দ্রর শেষযাত্রায় হাঁটার সময়ে তাঁর চোখে জলও দেখা যায়। 

সুরেন্দ্র সিংকে খুনের ঘটনায় দুজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে আমেঠি পুলিশ। নির্বাচনের পরেই এভাবে খুনে কি কোনও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে নাকি ব্যক্তিগত কোনও কারণ রয়েছে, সেসব খতিয়ে দেখছে আমেঠি পুলিশ। 

বারাউলি গ্রামের প্রাক্তন প্রধান সুরেন্দ্র সিং-এর বয়স হয়েছিল ৫০। আমেঠিতে স্মৃতির জয়ের পিছনে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছেন গ্রামবাসীরা। এবারের প্রচারে স্মৃতির সঙ্গে সব জায়গায় ঘুরেছিলেন তিনি। তাই মৃত্যুর খবর শুনেই স্মৃতি পৌঁছে যান তাঁর বাড়ি। পরিবার ও গ্রামবাসীকে সমবেদনা জানান। আর রবিবার তাই তাঁকে কাঁধ দিতে দেখা যায়।