বস্তারের চৌগেল ক্যাম্পে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের ড্রাইভিং, সেলাই, কাঠের কাজ ও ইলেকট্রিশিয়ানের মতো বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নকশাল পুনর্বাসন নীতির অধীনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়ে তাদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
রায়পুর। মনে যদি কিছু করার ইচ্ছা থাকে, তবে জীবনের কঠিন রাস্তাও সহজ হয়ে যায়। এই কথাটি আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা প্রমাণ করেছে। যে হাতগুলো আগে হিংসার পথে ছিল, তাদের এখন রাজ্যের নকশাল পুনর্বাসন নীতির অধীনে দক্ষ ও স্বনির্ভর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী, চৌগেল (মুল্লা) গ্রামের ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের সম্মানজনক জীবনের নতুন দিশা দেখানো হচ্ছে।
দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ: জীবিকা ভিত্তিক দক্ষতার প্রশিক্ষণ
পূর্বে মাওবাদী কার্যকলাপে জড়িত যুবক-যুবতীদের এখন ড্রাইভিং, সেলাই, কাঠের কাজ, সহকারী ইলেকট্রিশিয়ানের মতো বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো, সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসার পর তারা যেন কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে এবং স্বনির্ভর হয়ে সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন করতে পারে।
বস্তার ডিভিশন- দক্ষতা বিকাশের নতুন কেন্দ্র
বস্তার ডিভিশন, যা বছরের পর বছর ধরে নকশাল হিংসায় প্রভাবিত ছিল, এখন ধীরে ধীরে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মাওবাদ থেকে মুক্তির পাশাপাশি পুনর্বাসনের দিকেও নজর দিচ্ছে। ভানুপ্রতাপপুর ব্লকের চৌগেল (মুল্লা) গ্রামে অবস্থিত বিএসএফ ক্যাম্প এখন 'কৌশলগড়' হিসেবে গড়ে উঠেছে, যেখানে ৪০ জন আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীকে বিভিন্ন কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষা ও দক্ষতা দুটোই তাদের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করতে পারে। ২০-২০ জনের ব্যাচে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষ করে তোলা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণে বদলে যাচ্ছে জীবন
ড্রাইভিং শিখছেন ৪০ বছর বয়সী মনহের তারাম। তিনি জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে তিনি চার চাকার গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষক তাকে স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ, ক্লাচ, ব্রেক এবং এক্সিলারেটরের সঠিক ব্যবহার শেখাচ্ছেন। তিনি বলেন, ড্রাইভিং শেখার স্বপ্ন এখন পূরণ হচ্ছে।
একইভাবে, নরসিংহ নেতামও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নিয়ে উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। ১৯ বছর বয়সী সুকদু পাদ্দা গত তিন মাস ধরে প্রশিক্ষণ নিয়ে জীবিকার কাজে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যদিও তিনি আগে নিরক্ষর ছিলেন। ১৯ বছর বয়সী কাজল বেড়দা জানান, ছোটবেলা থেকেই তার সেলাই শেখার শখ ছিল, যা এখন পূরণ হচ্ছে। এর পাশাপাশি তিনি প্রাথমিক শিক্ষাও গ্রহণ করছেন।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং বিনোদনের সুবিধা
ক্যাম্পে থাকা অন্যান্য অংশগ্রহণকারী যেমন জগদেব কোমরা, রাজু নুরুটি, বীরসিংহ মান্ডাভী, মাইনু নেগি, সানাউ গাওড়ে, মানকি নেতাম, সামকো নুরুটি, উঙ্গি কোররাম, রমোতি কাওয়াচি, মানকের হুপেন্ডি এবং আরও অনেকে তাদের আগ্রহ অনুযায়ী বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের দল নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করে। এছাড়া ক্যারাম, খেলাধুলা এবং সঙ্গীতের মতো বিনোদনমূলক কার্যক্রমও আয়োজন করা হয়।
স্বনির্ভরতা এবং নতুন সুযোগ
পুনর্বাসন শিবিরের নোডাল অফিসার বিনোদ আহিরওয়ার জানিয়েছেন যে, উত্তর বস্তার কাঙ্কেরের জেলাশাসকের নির্দেশে ৪০ জন আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীকে বিভিন্ন দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে মাশরুম চাষ, বাগান করা এবং অন্যান্য স্বনির্ভরতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণও শুরু করা হবে। সরকারের উদ্দেশ্য হলো, আত্মসমর্পণকারীরা যেন স্বনির্ভর হয়ে সমাজে সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারে।


