Snake Bites: দুই মিনিটের ব্যবধানে টানা পাঁচবার মারাত্মক সাপের ছোবল খেয়েও আশ্চর্যজনকভাবে প্রাণ বেঁচে গেল মধ্যপ্রদেশের এক মহিলার। চিকিৎসকদের নিরলস চেষ্টা এবং ৩৫টি জীবনদায়ী ইনজেকশনের দৌলতে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন তিনি।

Snake Bites: দুই মিনিটের ব্যবধানে টানা পাঁচবার মারাত্মক সাপের ছোবল খেয়েও আশ্চর্যজনকভাবে প্রাণ বেঁচে গেলেন মধ্যপ্রদেশের এক মহিলা। চিকিৎসকদের নিরলস চেষ্টা এবং ৩৫টি জীবনদায়ী ইনজেকশনের দৌলতে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের নর্মদাপুরম জেলার ঝিল পিপারিয়া গ্রামে। আক্রান্ত মহিলার নাম রাধাবাই আহিরওয়ার। ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ জুলাই দুপুর নাগাদ। রান্নাঘর পরিষ্কার করার সময় থালাবাসনের আলমারির পেছনে প্রায় ৫ ফুট দীর্ঘ একটি কালো রঙের বিষধর সাপ লুকিয়ে থাকতে দেখেন রাধাবাই। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাপটি সরাসরি তাঁর ডানহাতে ছোবল মারে। আতঙ্কে হাত ঝাঁকিয়ে সাপটিকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই হিংস্র হয়ে ওঠে সাপটি এবং পর পর পাঁচবার তাঁর হাতে গভীর ক্ষত তৈরি করে দংশন করে।

২৫টি জরুরি ইনজেকশনে বাঁচল প্রাণ

তবে বিপদের এখানেই শেষ ছিল না। সাপের ছোবলের পর পরিবার বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার বদলে প্রথমে তাঁকে নিয়ে যায় এক ওঝার কাছে। ঝাড়ফুঁকের চক্করে নষ্ট হয় অতি মূল্যবান সময়। অবস্থা দ্রুত আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলে এবং বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে তড়িঘড়ি তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরই চিকিৎসকেরা আপৎকালীন তৎপরতায় রাধাবাইকে বাঁচানোর লড়াই শুরু করেন। প্রথম ৪০ মিনিটের মধ্যে তাঁকে দেওয়া হয় ১০টি 'অ্যান্টি-স্নেক ভেনম' (ASV) ইনজেকশন। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় শরীরে বিষের প্রভাব নিষ্ক্রিয় করতে আরও ২৫টি জরুরি ইনজেকশন দেওয়া হয়। বিষের তীব্রতায় তাঁর হাতের একটি আঙুলে চরম সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় চিকিৎসকদের ছোট একটি অস্ত্রোপচারও করতে হয়।

বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ

টানা ২৪ ঘণ্টার জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ের পর অবশেষে বিপদমুক্ত হন ওই মহিলা। তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং স্বাভাবিক রয়েছেন। চিকিৎসকদের স্পষ্ট বার্তা, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে 'অ্যান্টি-ভেনম' দেওয়াই একমাত্র জীবন বাঁচানোর বৈজ্ঞানিক উপায়।