আক্ষরিক অর্থে 'জাস্টিস অন দ্য স্পট'। শুক্রবার ভোররাতে  ঘটনাস্থলের কাছেই পুলিশের এনকাউন্টারে খতম হায়দরাবাদ ধর্ষণকাণ্ডে চার অভিযুক্তই। ধন্য ধন্য করছেন সকলেই। কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল হায়দরাবাদ লাগোয়া চাতানপল্লী গ্রামে? কেনই বা গুলি চালাতে হল পুলিশকে? তা কিন্তু স্পষ্ট নয়। ভুয়ো সংঘর্ষ নয় তো? উঠছে প্রশ্ন। বস্তুত, আদালতের নির্দেশে হায়দরাবাদে এই এনকাউন্টারের তদন্তও হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

গত সাতাশে নভেম্বর হায়দরাবাদে চরম নৃশংসতার শিকার হন এক পশু চিকিৎসক। রাতে ফেরার পথে ওই যুবতীকে ধর্ষণ করে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়। ঘটনার পরেরদিন হাইওয়ে-তে একটি কালর্ভাটের নিচে তাঁর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় চার অভিযুক্তকে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ। অভিযুক্তদের ফাঁসি, পিটিয়ে মেরে ফেলা, এমনকী, যৌনাঙ্গচ্ছেদের মতো সাজারও দাবি উঠেছে। এরইমাঝে শুক্রবার ভোর রাতে ঘটনাস্থলেই কাছে পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয় চার অভিযুক্তই। তদন্তকারীদের দাবি, জনরোষের হাত থেকে বাঁচাতে তাদের ঘটনাস্থল অর্থাৎ হায়দরাবাদের শাদনগর থানার চাতানপল্লী গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোররাতে যখন ঘটনার পুনর্নিমার্ণের কাজ চলছিল, তখন পুলিশকর্মীদের উপর চড়াও হয় অভিযুক্তেরা। বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে তারা। বাধ্য হয়ে পাল্টা গুলি চালাতে হয় পুলিশকর্মীদেরও।  সত্যিই কি তাই নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে অভিযুক্তদের গুলি করে মারল পুলিশ? প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীদের একাংশ।

আরও পড়ুন: মুখ রাখতে কি ভুল লোককে ধরে মারল পুলিশ, উঠল গুরুতর প্রশ্ন

২০১৪ সালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভুয়ো এনকাউন্টারের অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে।  কখন, কোন পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত বা অপরাধীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো যাবে? সে সম্পর্ক নির্দিষ্ট একটি গাইডলাইন তৈরি করে দেয় দেশের শীর্ষ আদালত। সেই গাইডলাইন অনুযায়ী, খোলা জায়গায় যখন অভিযুক্তদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনার পুর্নর্নিমার্ণ করেন তদন্তকারীরা, তখন তাদের প্রত্যেকের হাতে হাতকড়া থাকা বাধ্যতামূলক। সেই হাতকড়ার অপরপ্রান্তটি আবার একজন পুলিশ আধিকারিকেরই হাতে লাগানো থাকে। অপরাধীরা যাতে কোনওভাবেই পালাতে না পারে, সেকারণে তাদের ঘিরে থাকেন সশস্ত্র পুলিশকর্মীরা। তবে অপরাধীরা যাতে কোনওভাবে অস্ত্রের নাগাল না পায়, সেদিকেও নজর রাখতে হয়।  কিন্তু এতকিছু পরে যদি কেউ পালানোর চেষ্টা করে তাহলে? সুপ্রিম কোর্টে স্পষ্ট নির্দেশ, কোনও অপরাধী পালানোর চেষ্টা করলে প্রথমে তাকে সতর্ক করতে হবে। প্রয়োজনে শূন্যে গুলিও চালাতে পারবেন পুলিশকর্মীরা। তাতেও যদি কাজ না হয়, একমাত্র তখনই অপরাধীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো যায়, কিন্তু এনকাউন্টার করার অনুমতি দেয়নি আদালত। কোমরের নিচে কিং পায়ে গুলি চালিয়ে অপরাধীকে ঘায়েল করতে হবে পুলিশকর্মীদের। 

ধরে যদি ধরেও নেওয়া হয়, হায়দরবাদে ধর্ষণের অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করেছিল, তাহলে তাদের কোমরে নিচে কেন গুলি চালাল না কেন পুলিশ? ছবিতে আবার স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, হাইওয়ে-এর ধারে যেখানে ঘটনা পুনর্নিমাণ করা হচ্ছিল, সেই জায়গাটির আশেপাশে কোনও পাহাড় বা জঙ্গল নেই। তাহলে অভিযুক্তদের থামানোই বা গেল না কেন? অভিযুক্তদের হাতে কি হাতকড়া ছিল না? প্রশ্ন অনেক, উত্তর জানা নেই কারওই।