দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার বৈঠকে বসেছিল কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি। বৈঠকে বিদেশে থাকার জন্য রাহুল গান্ধী উপস্থিত থাকতে না পারলেও কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে হাজির ছিলেন দলের অন্যান্য নেতা-নেতৃরা। গত শনিবার থেকে হিংসায় জ্বলছে দেশের রাজধানী। এরজন্য সাংবাদিক সম্মলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায়ি করে তাঁর পদত্যাগ চেয়েছিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী। সনিয়ার সমালোচনা থেকে বাদ যায়নি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। 

আরও পড়ুন: প্রতারণার অভিযোগ এবার ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে, দায়ের হল মামলা

আরও পড়ুন: খুন করেন স্বামী সহ পরিবারের ৬ সদস্যকে, এবার জেলে আত্মহত্যার চেষ্টা সিরিয়াল কিলারের

দিল্লিতে হিংসার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের দ্বারস্থ হল কংগ্রেস। এদিন রাজধানীতে দলের সদর দফতর থেকে মিছিল করে সনিয়া, মনমোহনরা যান রাষ্ট্রপতি ভবনে। এরপর রামনাথ কোবিন্দের হাতে স্মারকলিপি জাম দেন কংগ্রেস সভানেত্রী। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ছাড়াও কংগ্রেস প্রতিনিধিদলের সদস্য হয়েছিলেন চিদম্বরম, মল্লিকার্জুন খাড়গে, গুলাম নবি আজাদ  সহ দলের বরিষ্ঠ নেতারা। 

 

এদিকে রাজধানীতে সিএএ নিয়ে হিংসার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪। প্রায় ৫০ জন পুলিশকর্মী সহ আহতের সংখ্যা দুশো ছাড়িয়েছে। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ৭০। যদিও রাত থেকে নতুন করে আর হিংসার খবর পাওয়া যানি। তবে আজও থমথমে রয়েছে উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিভিন্ন অংশ। বুধবার হিংসা কবলিত উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ শিশোদিয়া সহ গোটা মন্ত্রিসভা নিয়ে বৈঠকে বসেন কেজরি।  আক্রান্ত এলাকাগুলিতে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে কথা হয় এই বৈঠকে। 

 

এদিকে চাঁদবাগ, ভজনপুর, গোরুলপুরী, মৌজপুর, কদমপুরী ও জাফরবাদে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটান না ঘটলেও সিআরপিএফের ফ্যাগ মার্চ চলছে। এর মধ্যেই আক্রান্ত এলাকাগুলিতে দিল্লি পুলিশের সহযোগিতায় পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে দিল্লি পুরসভা। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে এগোচ্ছে বলেই দাবি করা হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

 

 

এর মাঝেই রাজধানীতে হিংসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ। উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রসংঘের তরফে জানানো হয়েছে, দিল্লিতে হিংসায় মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোকাহত রাষ্ট্রসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি সংযম ও শান্তি ফেরানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। রাষ্ট্রসংঘের এই বার্তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ঘুরপথে মোদী সরকারের চাপ বাড়াল তা বলাই বাহুল্য।