মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিয় সেন্টারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন ক্রমশই শক্তি সঞ্চয় করেই স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসছে আমফান। এখনও পর্যন্ত এই ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টা ২৭০ কিলোমিটার। মার্কিন সংস্থার পক্ষে আরও জানান হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে এত শক্তিশালী ঝড়ের রেকর্ড নেই।  শুধু ভারত নয় সুপার সাইক্লোনের প্রভাব পড়বে প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও মায়ানমারেও। আমফান আটলান্টিক হ্যারিকেনের চতুর্থ পর্বের সমতুল বলেও জানিয়েছে মার্কিন সংস্থা। 

এখনও পর্যন্ত আমফানের যা গতি তা পর্যবেক্ষণ করে  প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যের দিকে পশ্চিমবঙ্গের দিঘা উপকূলে আছড়ে পড়বে সুপার সাইক্লোন।  তবে এই প্রভাব দেখা যাবে মঙ্গলবার থেকেই। এদিন থেকে গোটা বাংলা ও ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বভাস দিয়েছে মৌসম ভবন।বেশ কিছু জায়গায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।  উপকূলবর্তী এলাকায় তীব্র হাওয়া বইবে বলেও জানান হয়েছে। একইসঙ্গে জলোচ্ছ্বাসের ও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এদিন দুপুর থেকেই কাকদ্বীপ,নামখানাসহ একাধিক এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। 

আরও পড়ুনঃ করোনার আঁতুড় ঘর চিন কি পারবে রোগমুক্তির পথ দেখাতে, ওষুধ তৈরি হয়েছে বলেই দাবি বিজ্ঞানীদের ..

বুধবার এই ঝড় আছড়ে পড়ার সময় পূর্ব মেদিনীপুর ও দুই ২৪ পরগনায়  বায়ুর গতি প্রতিঘণ্টায়  ১৫৫ থেকে ১৮৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। আর গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় ঝড়ের গতি থাকবে ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। কোথাও কোথায় ১৩৫ কিলোমিটার বেগেও ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। আবহাওয়া দফতর জোয়ারের সময় দুই ২৪ পরগনার নিচু এলাকায় ৪-৫ মিটার জল বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।  ও পূর্ব মেদিনীপুরের নিচু এলাকায় জল বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৩-৪ মিটার।  

আরও পড়ুনঃ তাবলিগিদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সিন্ধ প্রদেশের হিন্দুরা, ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ ...

 পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূলবর্তী এলাকার মানুষদের ইতিমধ্যেই নারাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোতায়েন রয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীষ ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ দুই রাজ্যই কন্ট্রোলরুম খুলেছে। প্রশাসন তৈরি রয়েছে বলেও জানান হয়েছে। 

আরও পড়ুনঃ 'সম্মান রক্ষার' নামে ২ কিশোরীর রক্তে ভিজল পাকিস্তানের মাটি, ভিডিও আপলোড করায় খুন ..

আমফানের প্রভাব পড়বে উত্তর পূর্ব ভারতজুড়েই।  বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টি  থেকে অতিভারী হতে পারে বলেও মৌসমভাবন সূত্রে জানান হয়েছে। বুধ ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টি হবে অসম, সিকিম, মণিপুর, মিজোরাম সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে।