Govt Headquarters: রাইটার্স বিল্ডিং নয়, এবার নিউটাউনে তৈরি হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন প্রধান প্রশাসনিক ভবন। নবান্নের পর রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় যুক্ত হতে চলেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

রাইটার্স বিল্ডিং নয়, রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন নবান্ন থেকে সরছে নিউটাউনে। তেমনই খবর নবান্ন সূত্রের। আর সেই পরিকল্পনা মতই এগিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, রাইটার্স বিল্ডিং-এ জায়গা অপ্রতুল। শুভেন্দু সরকারের মূল লক্ষ্য রাজ্যের সবকটি দফতরকে একই ছাদের তলায় নিয়ে আসা। আর সেই কারণেই রাজ্যে প্রধান প্রশাসনিক ভবন নবান্ন থেকে নিউটাউনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নিউটাউনের কোথায় এই প্রশাসনিক ভবন করা হবে তা এখনও পর্যন্ত আলোচনার স্তরেই রয়েছে। চূড়ান্ত করা হয়নি।

নিউটাউনে রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন!

নবান্ন সূত্রের খবর, রাজ্যের ৫৪টি দফতরকেই একই ছাদের তলায় নিয়ে আসতে চায় শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। রাজ্যবাসীর জন্য কাজে গতি আনতে অত্যাধুনিক প্রযুক্ত সম্পন্ন একটি সদর কার্যালয় তৈরি করতে চায় বিজেপি সরকার। আর সেই কারণেই নিউটাউনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরতকার।

কোথায় তৈরি হবে ভবন?

সূত্রের খবর, নজরুলতীর্থ মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন ১৭.২৮ একর জমি নিয়ে চিন্তাভাবনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সূত্রের খবর, আরও দুই একটি জমি দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তারা। কারণ নজরুলতীর্থ সংলগ্ন জমিতে পূর্বতন সরকার দুর্গাঙ্গন তৈরির কথা ঘোষণা করেছিল। তবে সেক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই কাজ শুরু করতে পারেনি। তবে আগামী তিন বছরের মধ্যে নতুন প্রশাসনিক কার্যালয় তৈরির কাজ শেষ করার টার্গেট সেট করেছে রাজ্য সরকার। সেইমত জমি চিহ্নিত করে দ্রুত কাজ শেষ করার পরিকল্পনাও নিয়েছে বিজেপি সরকার।

প্রশাসনিক প্রধান কার্যালয়ের নবান্ন যাত্রা

সালটা ছিল ২০১৩। ৫ অক্টোবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন চলে যান। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন মহাকরণে সংস্কারের কাজ চলছে। আর সেই কারণে মাত্র ৬ মাসের জন্য রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয় মহাকরণ থেকে নবান্নে নিয়ে যাচ্ছেন। ৬ মাস পরেই ফিরবেন। মহাকরণের পাত্তাতাড়ি গোটানোর পর কেটে গেছে প্রায় ১৩ বছর। গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় আর ফিরে আসেননি মহাকরণে। রাজ্যের অন্দরে লালবাড়ি নামেই পরিচিত মহাকরণ। গত কয়েক বছর ধরেই চলছে সংস্কারের কাজ। বহিরঙ্গ ও অন্দরমহলে সারাইয়ে হাত পড়লেও কাজ সে ভাবে এগোয়নি। মমতা নবান্নে চলে গিয়েছেন। হেরিটেজ সংস্থার সঙ্গে কথা বলে মহাকরণের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও একাধিক দফতরের অফিস রয়েছে এখানে। সেগুলি হল- স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর। পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিপার্টমেন্ট, ভূমি সংস্কার দপ্তর, কৃষি, পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের অংশ। এছাড়া, আইন দপ্তর, জুডিশিয়াল, পরিষদীয় বিষয়ক দপ্তরের একটা অংশ এখান থেকে কাজ করে।

মহাকরণ

বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বলেছিল যে তারা নবান্ন থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর সরিয়ে রাইটার্স বিল্ডিং-এ নিয়ে আসার পরিকল্পা করছে। ক্ষমতায় আসার পরপরই মহাকরণ ঘুরে গিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শুভেন্দুও মহাকরণে ফেরার কথা বলেছিলেন।