সিকিমের ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য ২০০২ সালের বদলে ১৯৯৩ সালকে ভিত্তি বছর করার আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছে আদালত। আবেদনকারীর উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত।

সোমবার সুপ্রিম কোর্ট একটি বড় রায় দিয়েছে। সিকিমের ভোটার তালিকা সংশোধনের (Special Intensive Revision বা SIR) জন্য ২০০২ সালকেই কাট-অফ বছর হিসেবে বহাল রাখা হল। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে জানাল শীর্ষ আদালত।

আবেদনকারীর আর্জি ও আদালতের প্রশ্ন

সিকিমিজ মুলনিবাসী সুরক্ষা সঙ্ঘ নামে একটি সংগঠন এই আবেদন করেছিল। তাদের দাবি ছিল, ২০০২ সালের বদলে ১৯৯৩ সালকে ভিত্তি বছর করা হোক। তাদের যুক্তি, ২০০২ সালের সংশোধনের ফলে বহু পরিযায়ী মানুষ ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়েছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনার বেঞ্চ আবেদনকারী সংগঠনের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তোলে। আদালত জানায়, সিকিমের কোনও রাজনৈতিক দল বা অন্য কোনও পক্ষ তো এই বিষয়ে অভিযোগ জানায়নি।

শুনানির সময় আবেদনকারীর আইনজীবী সওয়াল করেন, সিকিমের জনসংখ্যা এবং ভোটার তালিকার চরিত্র অন্য রাজ্যের মতো নয়। তাঁর মতে, প্রতিবেশী এলাকা থেকে বহু মানুষ সেখানে চলে আসায় এবং ছোট ছোট জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে ২০০২ সালকে ভিত্তি বছর হিসেবে ধরা ঠিক নয়। আইনজীবী পরামর্শ দেন, ১৯৯৩ সালের ভোটার তালিকাকে ভিত্তি ধরা যেতে পারে। যদিও তিনি নিজেই জানান যে ১৯৯৩ সালই সঠিক বছর হবে কিনা, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তাঁর মূল বক্তব্য ছিল, ২০০২ সালের সংশোধনের পর জনসংখ্যা এবং ভোটার তালিকার মধ্যে একটা ফারাক তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের যুক্তি

নির্বাচন কমিশন এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে। কমিশন জানায়, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অনেক বেশি সংশোধিত এবং সারা দেশে অভিন্নভাবে এই বছরটিকেই কাট-অফ হিসেবে ধরা হয়েছে। এখন ভিত্তি বছর বদলাতে গেলে পুরো প্রক্রিয়াটাই নতুন করে শুরু করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও রায়

আদালত প্রশ্ন তোলে, আবেদনকারী সংগঠনটি সিকিমের হলেও তারা রাজ্য সরকারের কাছে না গিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে কেন এসেছে? আদালত আরও বলে, "দিল্লিতে বসে থাকা কোনও আবেদনকারী যে সিকিমের মানুষের স্বার্থে কাজ করছে, তা কী করে বোঝা যাবে?"

আদালত আরও জানায়, ২০০২ সালের মধ্যেই সিকিম একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্য হয়ে গিয়েছিল। তাই ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে তাকে অন্য রাজ্যগুলির থেকে আলাদাভাবে দেখার কোনও কারণ নেই।

বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে, সিকিমের কোনও রাজনৈতিক দলই এই বিষয়ে আদালতে আসার প্রয়োজন বোধ করেনি। প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, "কোনও রাজনৈতিক দল এগিয়ে আসেনি। কোনও অংশীদার এগিয়ে আসেনি। এটা সকলের কাছেই গ্রহণযোগ্য। আপনারা যারা দিল্লিতে বসে আছেন, তারা যে রাজ্যের শুভাকাঙ্ক্ষী, তা আমরা কী করে জানব?"

আদালত জানায়, কোনও একটি রাজনৈতিক দল ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারে, কারণ এতে এক দলের লাভ বা অন্য দলের ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে আবেদনকারীর আদালতে আসার ভিত্তি কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। শেষ পর্যন্ত আদালত জানায়, "আমরা আপনার কথা শুনেছি। কিন্তু কাট-অফ বছর বদলানোর কোনও কারণ খুঁজে পাইনি।" আদালত ২০০২ সালের কাট-অফ বদলাতে অস্বীকার করে। তবে আবেদনকারী সংগঠনকে তাদের উদ্বেগ নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।