নির্বাচন কমিশনের দিকে ইন্ডিয়া জোটের পদযাত্রার আগেই সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন সাংসদ মনোজ ঝা এবং পি সন্তোষ কুমার। ফর্ম ৬ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তাঁরা দাবি করেন, সিইসি গোটা দেশকে ভুল বুঝিয়েছেন এবং তাঁর অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের অফিসে ইন্ডিয়া জোটের পদযাত্রা রয়েছে। তার আগেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া নিশানা করলেন আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা এবং সিপিআই সাংসদ পি সন্তোষ কুমার। ফর্ম ৬-এর পরিবর্তন নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি জানিয়েছে যে তারা এর কোনও অনুমোদন দেয়নি। এই মন্তব্যের সূত্র ধরেই বিরোধীরা সুর চড়িয়েছেন। মনোজ ঝা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্যের পর আর নতুন করে কিছু বলার থাকে না। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন একেবারেই সম্ভব নয়। মনোজ ঝা বলেন, "গতকাল মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে যে তারা ফর্ম ৬-এর কোনও অনুমোদন দেয়নি। আদালত আরও বলেছে, সব একতরফা সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। এরপর আর কী প্রস্তুতি বাকি থাকে?" তিনি আরও যোগ করেন, "ওঁদের (জ্ঞানেশ কুমার) নেতৃত্বে কোনও নির্বাচনই সুষ্ঠু হতে পারে না।"
মনোজ ঝা জানান, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই বিরোধী সাংসদরা আজ কমিশনের দপ্তরে যাচ্ছেন। ভারতীয় গণতন্ত্রের 'বিশাল রূপ' ফিরিয়ে আনার ডাক দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, "আজ যখন আমরা নির্বাচন কমিশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, তখন দেশের অবস্থাকে একেবারে তলানিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। আমাদের গণতন্ত্রের সেই বিশাল রূপটাকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।"
'সিইসি মিথ্যা বলছেন এবং দেশকে ভুল বোঝাচ্ছেন': সিপিআই সাংসদ
এই একই ইস্যুতে সিইসি-কে নিশানা করেছেন সিপিআই সাংসদ পি সন্তোষ কুমারও। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন আগে দাবি করেছিল যে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়েই এই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে। সন্তোষ কুমার বলেন, "আদালতের এই পর্যবেক্ষণটা খুবই গুরুতর। কারণ গত ২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন একটা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল যে সুপ্রিম কোর্ট তাদের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়েই নাকি ওই পরিবর্তনগুলো কার্যকর করা হয়েছিল।"
তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্য থেকেই পরিষ্কার যে জ্ঞানেশ কুমার গোটা দেশকে ভুল বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন, "গতকালের পর্যবেক্ষণের পর একটা বিষয় একেবারে জলের মতো পরিষ্কার। জ্ঞানেশ কুমার মিথ্যা বলছিলেন এবং সুপ্রিম কোর্টের নাম করে তিনি গোটা দেশকে ভুল বোঝাচ্ছিলেন। এটা একটা মারাত্মক অপরাধ।"
সন্তোষ কুমার আরও অভিযোগ করেন যে, বিরোধীদের 'ভোট চুরি'-র অভিযোগের পাশাপাশি ফর্ম ৬-এর বিষয়টিও সিইসি-র বিরুদ্ধে আরও একটা বড় অভিযোগ হয়ে দাঁড়াল। তিনি বলেন, "জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আরও একটা অভিযোগ জুড়ল। ভোট চুরির পাশাপাশি এটাও এখন একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। সত্যি বলতে কী, চিফ ইলেকশন কমিশনার মানে এখন 'চোর ইলেকশন কমিশনার' হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
নির্বাচন সদন অভিযানে বিরোধীরা
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানিতে ফর্ম ৬ নিয়ে এই মন্তব্য করেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, "পরিবর্তিত কোনও ফর্ম ৬-কে আমরা অনুমোদন দিইনি। বিষয়টা স্পষ্ট হওয়া দরকার। যখন রেকর্ড পেশ করা হবে, তখন আমরা দেখতে চাইব কে এই পরিবর্তন করেছে।"
স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বেনিয়মের অভিযোগ এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করার দাবিতে মঙ্গলবার সকালে রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর 'নির্বাচন সদন'-এর দিকে পদযাত্রা করবেন বিরোধী দলের নেতা ও সাংসদরা।
ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগ তুলে এবং কমিশনের কাছে আরও স্বচ্ছতার দাবিতে বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরেই প্রচার চালিয়ে আসছে। তারই অংশ হিসেবে এই পদযাত্রা। ইন্ডিয়া জোটের একাধিক দলের নেতারা এই মিছিলে অংশ নেবেন এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে তাঁদের দাবিদাওয়া তুলে ধরবেন।
বিরোধীদের ডাকা বৃহত্তর 'সেভ ডেমোক্রেসি' বা 'গণতন্ত্র বাঁচাও' কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই বিক্ষোভ। এই কর্মসূচির অধীনে বিরোধী নেতারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লাগাতার বিক্ষোভ ও জনসভা করে আসছেন।
নির্বাচন সদন অভিমুখে এই পদযাত্রার ফলে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ইস্যুতে বিরোধী এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর এই পদযাত্রার ঠিক আগেই সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য ইন্ডিয়া জোটকে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে।


