ইয়েস ব্যাঙ্ক ইস্যুতে এবার রাহুল গান্ধির সঙ্গে তরজায় জড়ালেন কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। রাহুলকে কটাক্ষ করে অনুরাগ ঠাকুর বলেন, এক জনের পাপের বোঝা বইতে হচ্ছে অন্যজনকে। ইয়েস ব্যাঙ্কই শুধু নয়। ভারতে আরও বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্কের ভরাডুবি হতে পারে। সোমবার লোকসভায় দাড়িয়ে তেমনই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। তিনি বলেন, দেশের ব্যাঙ্কিং সিস্টেম ঠিক মত কাজ করছে না।  পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। একের পর এক ব্যাঙ্কে ভরাডুবি হচ্ছে। এই পরিস্থিতে আরও বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্কের ভরাডুবি হতে পারে বলেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধি। দেশের ব্যাঙ্কগুলি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার জন্য তিনি কেন্দ্র সরকারের অর্থনীতিকেই দায়ি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়ার নাম করে অনেকেই টাকা চুরি করছেন। 

আরও পড়ুনঃ ইয়েস ব্যাঙ্ককাণ্ডে ইডির সমন রিলায়েন্স গ্রুপের প্রধান অনিল অম্বানিকে

২০১৪ সালের প্রসঙ্গ আবারও সংসদে উত্থাপন করে রাহুল গান্ধি নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। তিনি বলেন ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন কালো টাকা দেশে ফিরেয়ে আনা হবে। দেশের টাকা লুঠ করে যারা পালিয়ে গেছে তাদেরও ধরে আনা হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও টাকাই ফেরত আসেনি। উল্টে একের পর এক ব্যাঙ্কের ভরাডুবির ঘটনা সামনে আসছে। প্রথম সারির ৫০ জন ঋণ খেলাপির নাম প্রকাশ করার ওপর আবারও জোর দেন রাহুল গান্ধি। 

কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর রাহুল গান্ধির প্রশ্নের উত্তর দিতে উঠলে বাধা দেন তিনি। বলেন, তাঁর প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনকে। কিন্তু স্পিকারের পরামর্শে অনুরাগ ঠাকুরই রাহুল গান্ধির প্রশ্ন উত্তর দিতে গিয়ে চিরাচরিতভাবে নিশান করেন কংগ্রেসকে। তিনি বলেন, ২৫ লক্ষ টাকার ওপর যে সব ঋণ খেলাপির নাম রয়েছে তাদের তালিকা রয়েছে ওয়েব সাইটে। তিনি আরও বলেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কোনও ঋণ খেলাপিকেই আড়াল করছে না। তিনি আরও বলেন কংগ্রেসের শাসনকালেই একাধিক টাকা বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সব টাকা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বিজেপি সরকার। একজনের করা পাপের বোঝা অন্যজনকে বইতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করে রাহুল গান্ধিকে নিশানা করেন অনুরাগ ঠাকুর। একই সঙ্গে ইয়েস ব্যাঙ্কের কর্ণধার রানা কাপুরকে ছবি বিক্রির ইস্যুও তুলে ধরেন তিনি। যা কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছিল রাহুল গান্ধিকে। 

আরও পড়ুনঃ কমল নাথকে স্বস্তি দিল না বিজেপি, মধ্যপ্রদেশে আস্থা ভোটের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে

আরও পড়ুনঃ প্রেমিকাকে খুন করে গাড়ি সামনে সিটে বসিয়ে ৪৫ মিনিটের দুবাই সফর

আগামী বুধবার থেকে স্বাভাবিক হতে পারে ইয়েস ব্যাঙ্কের কাজকর্ম। তবে এদিনই ইয়েস ব্যাঙ্ককাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইডি ডেকে পাঠিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘনিষ্ট অনিল অম্বানিকে। ইয়েস ব্যাঙ্কের ভরাডুবির পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসনে গ্রাহকদের টাকা তোলায় উর্ধ্বসীমা ৫০ হাজার বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। ঋণ দানের ওপর জারি করা হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা। তবে বুধবার থেকে ব্যাঙ্কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলেই আশা করা হচ্ছে।