উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল জেলায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বনে ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের আক্রমণে নিহত হয়েছে ১৮ বছর বয়সী এক কিশোরী। গত বুধবারই নৈনিতাল জেলার একই ব্লকে চিতাবাঘের হানায় প্রাণ গিয়েছিল ১৩ বছরের আরেক কিশোরীর। ২৪ ঘন্টার মধ্যে চিতাবাঘের হামলায় দুই-দুইটি কিশোরীর মৃত্য়ু হওয়ায় ওই ব্লকে তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

নৈনিতাল বন বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নৈনিতাল জেলার ওখালকান্দা ব্লকের বাজওয়াল গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। কিশোরী মেয়েটি অন্যান্য গ্রামবাসীদের সঙ্গেই পশুখাদ্য আনতে জঙ্গলে যাচ্ছিল। পথে আচমকা একটি চিতাবাঘ তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে জঙ্গলের গভীরে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। পরে তার বাড়ি থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূর থেকে মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। মেয়েটি জেলার সরকারী স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ত বলে জানা গিয়েছে। তাঁর পরিবারকে রাজ্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে তিন লক্ষ টাকা এক্স গ্রাসিয়া দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার ওখালকান্দা ব্লকেই চিতাবাঘের হামলায় ১৩ বছরের কিশোরী মৃত্যুর পর ওই চিতাটিকে রাজ্য বন বিভাগ 'ম্যান ইটার' বলে ঘোষণা করেছিল। চিতাটিকে ধরার জন্য ফাঁদও পাতা হয়েছে। তারপরও বৃহস্পতিবার আরও একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটল। বৃহস্পতিবারের হামলাটি ওই একই বাঘ চালিয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শীত পড়া শুরু হতে না হতেই উত্তরাখণ্ডে ক্রমে মানুষ-চিতা সংঘাত বাড়ছে। বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি নিয়ে এই রাজ্যে গত দেড় মাসে চিতাবাঘের আক্রমণে আটজন শিশুর মৃত্যু হল। এর আগে ১৫ অক্টোবর, ইউএস নগর জেলার জসপুর এলাকায় এক ১১ বছরের কিশোরী, ১১ অক্টোবর তেহরি গাড়ওয়াল জেলায় এক ৭ বছরের কিশোরী, ৭ অক্টোবর পিথোরাগড়ের বেরিনাগ বিভাগে ৭ বছরের এক কিশোরী, ১ অক্টোবর, পাউড়ি গাড়ওয়াল জেলায় ১৪ বছরের এক কিশোর, ২৪ সেপ্টেম্বর, পিথোরাগড়ে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরী, এবং ১৯ সেপ্টেম্বর, আলমোড়া জেলায় আরও এক ৭ বছর বয়সী কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে চিতাবাঘের হামলায়।