দেখতে দেখতে এক বছর হয়ে গেল ভারতীয় বিমান বাহিনীর বালাকোট অভিযানের। যার কোড নাম ছিল 'অপারেশন বান্দর'। ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে ভারতীয় বিমানবাহিনী এই অভিযান চালিয়েছিল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বালাকোটে জঙ্গিগোষ্ঠী 'জইশ-ই-মহম্মদ'-এর সন্ত্রাস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলির ওপর। এতে ছয়টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় বলে দাবি করে ভারত সরকার। 

আরও পড়ুন: পরিস্থিতি সামলাতে দিল্লিতে অজিত ডোভাল, আক্রান্ত এলাকায় স্থগিত সিবিএসই-র বোর্ড পরীক্ষা

এই হামলার ঠিক ১২দিন আগে গতবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদ স্ত্রাসবাদী হামলা চালিয়েছিল সিআরপিএফের গাড়িতে। যাতে শহিদ হতে হয়েছিল অন্তত ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানকে। ঘটনার পরই  সারা দেশ বদলার আগুনে ফুটছিল। প্রধানমন্ত্রীও কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন। ঠিক তার ১২ দিনের মধ্যে পুলওয়ামার জবাব দিয়েছিল ভারতীয় বিমান বাহিনী। 

আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গে চলবে বৃষ্টি, দক্ষিণবঙ্গে কাল থেকে বাড়বে তাপমাত্রা

সেদিন নিকশ অন্ধকারের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে আকাশপথে উড়ে গেল ১২টি মিরাজ ২০০০ ফাইটার জেট। মাত্র কয়েক মিনিটের অপারেশন। ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল বালাকোটের একের পর এক জঙ্গি শিবির। জইশ, লস্কর-ই-তৈবা, হিজবুল ক্যাম্পের তাবড় জঙ্গি প্রশিক্ষক সহ খতম হয়েছিল ৩৫০ জন জঙ্গি। ঐতিহাসিক এই এয়ারস্ট্রাইকের প্রতিটা ধাপ সাজানো হয়েছিল নিখুঁত ছকে। 

পুলওয়ামার ঘটনার বিপরীতে ভারত যে রকম দ্রুতগতিতে নির্ভুল লক্ষ্যভেদ করেছিল তাতে পাকিস্তান থমমত খেয়ে গিয়েছিল।  দেখতে দেখতে এক বছর হয়ে গেল সেই ঘটনার। আর এই বালাকোট হামলার জন্যই গত লোকসা ভোটের সময় এদেশে বড় ধরণের কোনও সন্ত্রাসী হামলা ঘটেনি বলে মনে করছেন তৎকালীন বায়ুসেনার প্রধান বিএস ধানওয়া। 

 

 

 

 

ধানওয়ার কথায়, " বালাকোট হামলার পর সন্ত্রাসবাদীরা ভয় পেয়েছিল, ভারত আরও বড় প্রত্যুত্তর দিতে পারে। সেকারণে গত লোকসভা নির্বাচনে এদেশে বড় রকমের কোনও নাশকতার ঘটনা ঘটেনি।"