প্রথম দফায় সফল তো হয়েছিলেন। মধ্য প্রদেশ থেকে রাজ্যসভার সাংসদ  হিসেবে পৌঁছে গেছেন দিল্লির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে। আর দ্বিতীয় দফাতেও সফল্য এসেছে তাঁরই শিবিরে। বৃহস্পতিবার মধ্য প্রদেশে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করেছেন শিবরাজ সিং চৌহান। আর মামাজির সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় বিজেপি নেতা জ্যোতিরাদিত্যের ১২ অনুগামীর মধ্যে রয়েছে ৯ অনুগামী। আর এই দর কষাকষির অঙ্কে রীতিমত এগিয়ে রয়েছেন সিন্ধিয়া। তার তাতে রীতিমত স্বস্তির হাওয়া সিন্ধিয়া শিবিরে। 


মধ্য প্রদেশের রাজনীতিতে এখনও তাঁর প্রধান দুই প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের কমল নাথ ও দ্বিগবিজয় সিং। কংগ্রেসের অন্দরের খবর এই দুই বরিষ্ঠ রাজনীতিবিদের জন্যই রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ট হয়েও হালে পানি পাননি জ্যোরিতাদিত্য সিন্ধিয়া। মুখ্যমন্ত্রীর দাবিদার হয়েও কমলনাথের কারণে মসনদ দখল থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। আর রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে প্রার্থীর রাস্তায় পথের কাঁটা ছিলেন দ্বিগবিজয় সিং। সিন্ধিয়ার এক ঘনিষ্ঠের  কথায় রাজনৈতিক ভবিষ্যত বাঁচাতেই কংগ্রেসের সংঙ্গে ১৯ বছরের সম্পর্ক চুকিয়ে দিয়ে হয়েছিল।   কিন্তু দলবদল করে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন তাঁর ক্যারিশ্মা। যা ফুটে উঠল তাঁর কথায়। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া  রীতিমত আক্রমণাত্মক ভূমিকা  গ্রহণ করতে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। তিনি সরাসরি  জানিয়েছেন কমল নাথ বা দ্বিগবিজয় সিং-এর কাছ থেকে কোনও শংসাপত্র নেওয়ার দরকার নেই তাঁর পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ ১৫ মাসের কমলনাথ সরকার ছিল দূর্নীতির আখড়া। 

 

জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া আরও বলেছেন গত দুমাস ধরে প্রচুর মানুষ তাঁর চরিত্রকে কলুষিত করেছে। তার উত্তর তিনি দেবেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন দূর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা তাঁর প্রথম ও প্রধান কর্তব্য। তারপরই জনপ্রিয় হিন্দি ছবির নাম উচ্চাররণ করে বলেন টাইগার আভি জিন্দা হ্যায়। কী বলতে চাইলেন জ্যোতিরাদিত্য। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারননা এখানেই লড়াইয়ে ইতি টানছেন না তিনি। তাঁর আগামী লড়াই কার বিরুদ্ধে তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কারণ বিজেপি সূত্রের খবর ধীরে ধীরে শিবরাজ সিং চৌহানের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। যার ইঙ্গিত মিলছে মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রিসভা থেকে। 

মধ্যপ্রদেশে জ্যোতিরাদিত্যর 'মিশন' সফল, 'মন্থন থেকে উঠে আসা বিষ পান'-এর সঙ্গেই তুলনা শিবরাজের ...


জ্যোতিরাদিত্যের দর কষাকষি যে শিবরাজও মেনে নিতে পারছেন না তা অবশ্য তিনি ঘনিষ্ট মহলে প্রকাশও করেছেন। কিন্তু তাঁর হাত-পা বাঁধা। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রধান শর্তই জ্যোতিরাদিত্যের অনুগামীদের সমর্থন। না হলে  তাঁকে বসতে হল বিরোধী আসনে। যা মেনে নিতে চায়নি দিল্লির নেতৃত্ব।  রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে চুপ করে হাতে হাত রেখে বসে থাকার মত মানুষ নন তিনি। ধীরে ধীরে বিজেপি শিবিরেই ঘর গোছাতে শুরু করবেন বলেই  জ্যোতিরাদিত্য। তখন শিবরাজের আরও অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেন না তো? তা অবস্য সময়ই বলবে বলে মনে করছে জ্যোতিরাদিত্য ঘনিষ্ঠরা।