দেখতে দেখতে কেটে গেল তিন মাস। অবশেষে জয়ের শেষে হাসি হাসলেন কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখানো জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। মধ্যপ্রদেশে কমল নাথের সরকার ফেলতে ২২ জন কংগ্রেস বিধায়ক নিয়ে দল ছেড়েছিলেন তিনি। যার মধ্যে ১৪ জনই তাঁর ঘনিষ্ট  হিসেবে পরিচিত। সেই ১৪ জনের মধ্যে থেকে  ৯ জন মন্ত্রী হিসেবে এদিন শপথ নিয়েছেন। কংগ্রেস ছেড়ে আসা মোট ১২ জন বিধায়ক এদিন শপথ বাক্য পাঠ করেন। আর বিজেপির পক্ষের ১৬ জন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। 

সিন্ধিয়া ঘনিষ্ঠদের মধ্যে রয়েছে তাঁর পিসি যশোধরা সিদ্ধিয়া।, ইমত্রি দেবিস, প্রভুরাম চৌধুরী। এদিন সব মিলিয়ে মোট ২৮ জন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তাঁদের শপথ বাক্য পাঠ করান উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন।  মধ্যপ্রদেশের দায়িত্বও রয়েছে তাঁর হাতে। গত মার্চ জ্যোতিরাদিত্য দল ছাড়ায় পড়ে যায় কংগ্রেস সরকার। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথনেন শিবরাজ চৌহান। কিন্তু কোনও রফা সূত্র না মেলায় মাত্র ৫ জন মন্ত্রী নিয়েই এতদিন চলছিল শিবরাজের মন্ত্রিসভা। তিন মাস ধরে দীর্ঘ দর কষাকষির পরই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হয়। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। পদ্ম শিবিরের বক্তব্য শিবরাজ চৌহান মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরই লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। করোন মহামারি ও রাজ্যসভা নির্বাচন নিয়েই সবাই ব্যস্ত ছিল। তাই মন্ত্রিসভা সম্প্রসাদরণে  দেরি হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে সবমিলিয়ে শেষ হাসি হাসলেন জ্যোতিরাদিত্য সিদ্ধিয়া। 

শিবরাজের মন্ত্রিসভা নিয়ে রীতিমত ক্ষোভ রয়েছে বিজেপির অন্দরে। সূত্রের খবর দলে জ্যোতিরাদিত্যর এই বাড়বাড়ন্ত অনেকেই মেনে নিতে নারাজ। কিন্তু ঘনিষ্ঠ মহলে মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজও নাকি সেই কথাই বসেছেন। বুধবারই তিনি বলেন 'মন্থন থেকে আমৃত বার হয়, শিব একাই তো বিষ পান করেন'। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে দলীয় অনুগামীদের কাছে এই কথা বলে নিজের অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন শিবরাজ সিং চৌহান। সূত্রের খবর দিল্লির চাপে পড়ে যাঁদের মন্ত্রী করা হয়েছে তাঁদের অনেককেই ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন না শিবরাজ সিং চৌহান।