TMC Vs BJP: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের আগে ৪৮ ঘণ্টার সাইলেন্স পিরিয়ডে সুরাট থেকে বাংলায় বিনামূল্যে বিশেষ ট্রেন চালানোর অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনে গিয়ে নালিশ জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
ভোটের মুখে বিজেপির বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, গুজরাটের সুরাট থেকে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের জন্য বিনামূল্যে বিশেষ ট্রেন চালাচ্ছে বিজেপি। বুধবার এই মর্মে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে একটি চিঠি দিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছে তৃণমূল।
ভোট ট্রেন নিয়ে অভিযোগ
তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন চিঠিতে অভিযোগ করেছেন, বিজেপি এবং তাদের গুজরাট ইউনিট মিলে এই বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। এই ট্রেনে করে পশ্চিমবঙ্গের নথিভুক্ত ভোটারদের ফেরানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের পাশাপাশি খাবার ও অন্যান্য সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের মতে, এটা সরাসরি আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) লঙ্ঘন।
ডেরেক তাঁর চিঠিতে সুধানিধি বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক এক্স (X) ব্যবহারকারীর পোস্টের কথা উল্লেখ করেছেন। সেই পোস্টে একটি ট্রেনের ভিডিও শেয়ার করে লেখা হয়েছে, "সুরাট থেকে বাংলার জন্য বিজেপির বিশেষ ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। স্থানীয় গুজরাট ইউনিট সকলকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে যাওয়ার জন্য সঙ্গ দিচ্ছে।"
তৃণমূলের অভিযোগ
তৃণমূলের অভিযোগ, ভারতীয় রেল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ একটি সংস্থা। একে কোনওভাবেই ভোটের কাজে ব্যবহার করা যায় না। বিজেপি সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই কাজ করছে বলে অভিযোগ তুলেছে তারা। ডেরেক ও'ব্রায়েন এই ঘটনাকে "বিজেপির পক্ষে সমর্থন জোগাড় এবং ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করার জন্য একটি প্রচার কৌশল" বলে কটাক্ষ করেছেন।
তৃণমূলের অভিযোগপত্র
অভিযোগপত্রে লেখা হয়েছে, "সুধানিধি বন্দ্যোপাধ্যায় (@SudhanidhiB) নামে এক ব্যক্তির সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে ২১.০৪.২০২৬ তারিখে এই পোস্টটি করা হয়। সেখানে খোলাখুলি ঘোষণা করা হয়েছে: 'সুরাট থেকে বাংলার জন্য বিজেপির বিশেষ ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। স্থানীয় গুজরাট ইউনিট সকলকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে যাওয়ার জন্য সঙ্গ দিচ্ছে।' ওই পোস্টের স্ক্রিনশট এর সঙ্গে দেওয়া হল।"
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, "ভারতীয় রেল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একে কোনও দলের নির্বাচনী স্বার্থে ব্যবহার করা যায় না। সরকারি কোষাগারের টাকায় এই ধরনের পরিবহণের ব্যবস্থা করে বিজেপি সরকারি পদের এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার করছে। এমনকি যদি বিজেপি এর খরচ বহন করেও থাকে, তাহলেও নির্বাচন কমিশনের বর্তমান নির্দেশিকা অনুযায়ী এই ধরনের বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়া নিষিদ্ধ। বিজেপির এই কাজ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অন্যায় সুবিধা দিচ্ছে এবং সকলের জন্য সমান সুযোগের নীতি লঙ্ঘন করছে।"
তৃণমূল সাংসদের মতে, এই বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১ (RPA) অনুযায়ী একাধিক দুর্নীতিমূলক কাজের সামিল। এর মধ্যে রয়েছে 'ঘুষ' (RPA-এর ধারা 123(1)), নির্বাচনে 'অযাচিত প্রভাব' খাটানো (RPA-এর ধারা 123(2)), এবং ভোটারদের বিনামূল্যে যাতায়াতের জন্য বেআইনিভাবে পরিবহণের ব্যবস্থা করা (RPA-এর ধারা 123(5))।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই কাজ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩ (BNS)-এর ১৭৪ নম্বর ধারা অনুযায়ীও একটি অপরাধ।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ভোটারদের জন্য বিনামূল্যে পরিবহণ বা খাবারের ব্যবস্থা করা নিষিদ্ধ, এই বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে ডেরেক অবিলম্বে বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
তাঁর দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে:
- বিজেপিকে শোকজ নোটিস পাঠানো।
- অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা।
- এই বিশেষ ট্রেনের সমস্ত খরচ বিজেপির নির্বাচনী ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া।
- ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করা।


