শনিবার, ১৩ জুন দক্ষিণ তামিলনাড়ুর রামনাথপুরম শহরের কাছে নবনির্মিত বাড়িতে গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠান করেছিল হাবিলদার কে পলানির পরিবার। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে সীমান্তের কাছাকাছি ঘাঁটি থেকে মোবাইল ফোনে সেই অনুষ্ঠানের ছবি দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু, তাঁর দুর্ভাগ্য, সেই নতুন তৈরি বাড়িতে আর কোনওদিনই পা রাখা হবে না তাঁর। কারণ সোমবার রাতে গালওয়ান উপত্যকায় চিনা সেনার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গিয়েছে এই সাহসী বীর সৈনিকের।

পলানীর পরিবার এমনিতে রামনাথপুরম জেলার তিরুড়ভাড়ানাই শহরের নিকটবর্তী কাড়ুক্কালুর গ্রামের বাসিন্দা। কিন্তু মূলত ১০ বছরের ছেলে প্রসন্ন এবং ৮ বছরের কন্যা দিব্যা-কে ভাল স্কুলে পড়াবেন বলেই গ্রাম থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে রামনাথপুরম শহরের কাছেই একটি বাড়ি তৈরি করেছিলেন হাবিলদার কে পলানি। সেই বাড়ির গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠানে থাকার কথা ছিল বছর ৪০-এর পলানিরও। কিন্তু, দুই সেনাবাহিনীর মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে ছুটি পাননি তিনি। তাঁর স্ত্রী ভানাথিদেবী, এবং পলানির অন্যান্য আত্মীয়রাই ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আর কোনও দিনই এই বাড়িতে পা রাখা হবে না তাঁর।

পলানির মরদেহ আনা হবে কাড়ুক্কালুর গ্রামের পারিবারি ভিটেতে। পলানিরা এমনিতে কৃষিকাজই করতেন। তাঁর বাপ-ঠাকুরদা চাষাবাদই করতেন। কিন্তু, ২২ বছর আগে পলানিই প্রথম সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁকে দেখেই সেনায় যোগ দিয়েছেন তাঁর ছোট ভাই ইধায়াকানি-ও। বর্তমানে তিনি নিযুক্ত আছেন রাজস্থানে। দাদার শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানের জন্য তাঁকেও খবর দেওয়া হয়েছে।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী কে পলনিস্বামী, এই বীর তামিল সেনা সদস্যের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর পরিবারের জন্য ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের এক উপযুক্ত সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই বীর তামিল সন্তানের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।