জোজিলা গিরিপথে ভয়াবহ তুষারধসে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শ্রীনগর-লেহ জাতীয় সড়কে বরফের নিচে চাপা পড়েছে বহু গাড়ি। BRO ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। বিস্তারিত খবর পড়ুন এখানে।
বসন্তের শুরুতে ফের পাহাড়ের বুকে নেমে এল ভয়াবহ বিপর্যয়। শুক্রবার দুপুরে শ্রীনগর ও লাদাখকে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ জোজিলা গিরিপথে একের পর এক তুষারধসে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ধসের ফলে শ্রীনগর-লেহ জাতীয় সড়ক (NH-1) সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং বরফের স্তূপের নিচে প্রায় এক ডজন গাড়ি চাপা পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিপর্যয়ের কবলে জাতীয় সড়ক
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে জোজিলা পাসের জিরো পয়েন্ট এবং মিনিমার্গের মধ্যবর্তী এলাকায়, বিশেষ করে ড্রাস সেক্টরের ‘ক্যাপ্টেন টার্ন’ অঞ্চলে পর পর কয়েকটি বড় তুষারধস নামে। মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি রাস্তা কয়েক ফুট সাদা বরফে ঢেকে যায় এবং সেই সময় পথ দিয়ে যাওয়া পর্যটক ও মালবাহী গাড়িগুলি ধসের কবলে পড়ে। উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে তিন জন পুরুষ, এক জন মহিলা এবং একটি শিশু রয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধারকাজে তৎপর প্রশাসন
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজে নামে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (BRO), পুলিশ, ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF)। লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনয় কুমার সাক্সেনা পরিস্থিতির ওপর ব্যক্তিগতভাবে নজর রাখছেন এবং কার্গিলের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ তদারকি করার নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন এবং আহতদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং নতুন করে ধস নামার আশঙ্কায় উদ্ধারকাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে।
লাইফলাইনের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
৪৩৪ কিমি দীর্ঘ শ্রীনগর-লেহ জাতীয় সড়ক লাদাখের একমাত্র স্থলপথ যোগাযোগ ব্যবস্থা, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১,৫৭৫ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত জোজিলা পাস শীতকালে ভারী তুষারপাত ও ধসের কারণে প্রায়ই বন্ধ হয়ে যায়। এই নিয়মিত সমস্যা সমাধানে বর্তমানে জোজিলা টানেল নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে, যা শেষ হলে লাদাখ ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে সক্ষম হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই পথে পর্যটক ও যাত্রীদের যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


