সামনেই ইদ-উল-আজহা, কিন্তু তার আগেই উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে নতুন সংকট। তীব্র তাপপ্রবাহে কোরবানির জন্য তৈরি করা ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়ছে। জ্বর, ডিহাইড্রেশন এবং ডায়রিয়ার মতো সমস্যায় ভুগছে পশুগুলো, যা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন পালক ও বিক্রেতারা। 

দেশজুড়ে চলা তীব্র গরমের মধ্যে দরজায় কড়া নাড়ছে ইদ-উল-আজহা। কিন্তু উৎসবের ঠিক আগে এক নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা সুস্থ ছাগলগুলো প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ছাগলের জ্বর-পেটখারাপ!

স্থানীয় এক ছাগল পালক মহম্মদ কাদির নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, "আমার ছাগলটার প্রচণ্ড গরমে জ্বর এসেছে। তাপমাত্রার কারণে কিছুই খাচ্ছে না। খুব মুশকিলে পড়েছি।" তাঁর কথায় স্পষ্ট ফুটে উঠেছে অসহায়তা।

আরেক পালক, মহম্মদ রউফ জানান, তাঁর ছাগলটির আগের রাত থেকে পাতলা পায়খানা শুরু হয়েছে। এর জন্যও তিনি এই তীব্র গরমকেই দায়ী করেছেন। তিনি আরও একটি গুরুতর সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, অনেক বিক্রেতা ওজন বাড়ানোর জন্য ছাগলের পেটে জোর করে জল ভরে বিক্রি করে, যা ছাগলগুলোকে আরও অসুস্থ করে তোলে। রউফ বলেন, "কাল থেকে ছাগলটার লুজ মোশন হচ্ছে, কারণ গরমটাই এমন। কিছু সাপ্লায়ার তো ওজন বাড়ানোর জন্য ছাগলের পেটে জল ভরে দেয়। এতে আমাদের খুব সমস্যা হয়।"

পশু চিকিৎসকের পরামর্শ

পশুচিকিৎসক বিকাশ কুমার জানিয়েছেন, তীব্র গরমের কারণে পশুরা জ্বর, ডিহাইড্রেশন এবং ডায়রিয়ার মতো নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অসুস্থ পশুদের মধ্যে ছাগলের সংখ্যাই বেশি। চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, "প্রয়োজন অনুযায়ী ছাগলদের স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে, অ্যান্টিবায়োটিক এবং ব্যথানাশক ওষুধও চলছে।"

কোরবানির ইদ

ইসলাম ধর্মের অন্যতম বড় উৎসব ঈদ-উল-আজহা, যা 'ত্যাগের উৎসব' নামেও পরিচিত। এই উৎসবে আল্লাহর প্রতি হজরত ইব্রাহিমের চরম আনুগত্যকে সম্মান জানানো হয়। এই উৎসবের মূল প্রথাই হলো কোরবানি, যেখানে ছাগল, ভেড়া বা গরুর মতো সুস্থ পশু উৎসর্গ করা হয়। কোরবানির মাংস পরে পরিবার, বন্ধু এবং দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

এই উৎসবের আগে পশুদের সুস্থ রাখতে বিকাশ কুমার মালিকদের কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, "ছাগলদের ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচাতে নিয়মিত জল খাওয়াতে হবে এবং সরাসরি রোদে বেশিক্ষণ রাখা যাবে না।" তিনি আরও যোগ করেন, "চিকিৎসার অংশ হিসেবে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যানালজেসিকও দেওয়া হচ্ছে।"

এদিকে, ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD) সতর্ক করেছে যে উত্তরপ্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলায়, বিশেষ করে রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে, তীব্র থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।