অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান চুরির অভিযোগে দায়ের করা প্রথম এফআইআর-এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এই মামলায় অভিযুক্ত আটজনকেই গ্রেফতার করেছে। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত আটজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকার এসআইটি (SIT) গঠন করেছিল।

অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান চুরির অভিযোগে দায়ের করা প্রথম এফআইআর-এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এই মামলায় অভিযুক্ত আটজনকেই গ্রেফতার করেছে। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত আটজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি)-এর প্রাথমিক রিপোর্টের সুপারিশের ভিত্তিতে 'শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট'-এর সদস্য কৃষ্ণ মোহনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। এফআইআর-এ অভিযুক্ত হিসেবে অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লভকুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া এতে অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনের কথাও বলা হয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে চুরি, বিশ্বাসভঙ্গ, চোরাই সম্পত্তি গ্রহণ বা গোপন করা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং অভিন্ন উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে সংঘটিত অপরাধমূলক কাজ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ৩০৫, ৩০৬, ৩১৬(৫), ৩১৭(৪), ৩১৭(৫), ৬১ ও ৩(৫) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৩(১)(ক) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকার যে এসআইটি (SIT) গঠন করেছিল, তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই এফআইআর দায়ের করা হয়। কামেশ্বর চৌপালের মৃত্যুর পর ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কৃষ্ণ মোহনকে 'শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট'-এর ট্রাস্টি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

রাম মন্দিরে প্রাপ্ত অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর 'শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট'-এর অনুরোধে উত্তরপ্রদেশ সরকার ১৩ জুন একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। ৭ জুন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব মন্দিরে প্রদত্ত অনুদানের কোটি কোটি টাকা গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত রিপোর্টের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে এবং আদালতকে বিষয়টি দেখার আবেদন জানালে এই বিতর্কটি রাজনৈতিক গুরুত্ব লাভ করে।

সেই সময় অভিযোগের জবাবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) প্রধান অলোক কুমার সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তারা ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। এফআইআর (FIR) দায়ের হওয়ার পর সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব 'এক্স' (X)-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি সরকারের আমলে "ছোট মাছেরাই শাস্তি পাবে, অথচ বড় মাছেরা পার পেয়ে যাবে।"

অখিলেশ যাদব আরও দাবি করেন যে, মানুষের মধ্যে এমন আলোচনা চলছে যে এফআইআর দায়েরের আগেই হয়তো এসআইটি (SIT)-র প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করে প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে এবং ঠিক করা হয়েছে "কোন বড় মাছকে বাঁচানো হবে আর কাকে ফাঁসানো হবে।" তিনি এও অভিযোগ করেন যে, দেখে মনে হচ্ছে এসআইটি-র রিপোর্ট আগে থেকেই তৈরি করে রাখা হয়েছিল এবং তদন্তটি এমনভাবে চালানো হয়েছে যাতে তা পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলে যায়।