বাংলাদেশ থেকে চলে আসার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামি লিগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি বলেন, এটি সেই বাংলাদেশ নয়, যার জন্য ৩০ লাখ মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এবং ১৯৭১ সালের আন্দোলন হয়েছিল। কথাগুলো বলার সময় শেখ হাসিনা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
বাংলাদেশ থেকে চলে আসার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামি লিগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি বলেন, এটি সেই বাংলাদেশ নয়, যার জন্য ৩০ লাখ মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এবং ১৯৭১ সালের আন্দোলন হয়েছিল। কথাগুলো বলার সময় শেখ হাসিনা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, "আমি এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে কথা বলছি যিনি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে জীবন কাটিয়েছেন। আমাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হলেও আমি কখনই আমার জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি।" গ্রেফতার বা কারাবরণের আশঙ্কা সত্ত্বেও হাসিনা বুধবার ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রতি তাঁর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভয় কোনও নির্ণায়ক হতে পারে না।
ঠিক দু বছর আগে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দিল্লি থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে দেওয়া নিজের প্রথম অডিও বার্তায় হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যখন কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, তখন তিনি দূরে থাকতে পারেন না। তাই পরিণাম যা-ই হোক না কেন, তিনি দেশে ফিরবেন। শেখ হাসিনা আরও বলেন, "আমি আমার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নই, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। বাংলাদেশের মানুষ নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও শান্তি চায়।" হাসিনা নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি এ বছরের শেষের দিকে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, "আমি আমার ফিরে আসার কথা ঘোষণা করেছি এবং ডিসেম্বরেই তা করব। তবে উপযুক্ত সময়েই আমি তারিখটি ঘোষণা করব।"
আমি জানি তারা জেলে ঢোকাতে পারে, তবুও আমি যাব
শেখ হাসিনা বলেন, "১৯৮১ সালে যখন আমি বাংলাদেশে ফিরেছিলাম, তখনও তারা আমাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ফিরে আসার পর আমাকে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু সেসব বাধা আমাকে মাতৃভূমিতে ফেরা থেকে আটকাতে পারেনি। আমি আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নই, আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। আমি জানি বাংলাদেশে গেলে তারা আমাকে গ্রেফতার, হত্যা বা কারারুদ্ধ করতে পারে, কিন্তু আমি অবশ্যই ফিরে যাব।
এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত আন্দোলন – শেখ হাসিনা
দুই বছর আগের বাংলাদেশ প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, "গত দুই বছর ধরে আমি আমার প্রিয় বাংলাদেশকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে দেখেছি। এটি সেই বাংলাদেশ নয় যা আমরা গড়ে তুলেছিলাম। এটি সেই বাংলাদেশ নয় যার জন্য ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছিলেন। আমি ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের সত্য ঘটনা দিয়ে শুরু করতে চাই। এটি কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। শুরু থেকেই আমার সরকার আলোচনা, আইনি প্রক্রিয়া ও ধৈর্যের মাধ্যমে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সংস্কারের আড়ালে কিছু সুসংগঠিত গোষ্ঠী পড়ুয়াদের দাবিগুলোকে একটি হিংসাত্মক রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করার চেষ্টা করছিল।"
শেখ হাসিনার দাবি
- আওয়ামি লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
- রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।
- মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
- বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করতে হবে।
- সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
শেখ হাসিনার বক্তব্যের আগে তাঁর দল আওয়ামি লিগের নেতারাও বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসেরের তীব্র সমালোচনা করেন। শেখ হাসিনার সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, "আমরা প্রতিশোধ চাই না। আমরা কেবল ন্যায়বিচার চাই। আমরা আহ্বান জানাতে চাই যেন বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদকে সমর্থন না করা হয়। আমরা চাই না বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হোক।"
ভারত সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই
নয়াদিল্লির 'ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া'-তে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে যে, এই সাংবাদিক সম্মেলনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই এবং এই মঞ্চ থেকে বলা কোনও বিষয়কেই তারা সমর্থন করে না।


