CJP Protest News: দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভের মঞ্চে উঠে উর্দি পরেই চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন উত্তরাখণ্ড পুলিশের কনস্টেবল শের সিং। কিন্তু পরে উত্তরাখণ্ড পুলিশ জানিয়েছে, ওই কনস্টেবল আগে থেকেই সাসপেন্ড ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক মামলাও রয়েছে। বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

CJP Protest News: দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্রদের বিক্ষোভ চলছিল। আচমকাই সেই মঞ্চে উর্দি পরে উঠে এলেন উত্তরাখণ্ড পুলিশের কনস্টেবল শের সিং। তারপর সোজা ঘোষণা করলেন, তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে যায়। তবে এরপরেই উত্তরাখণ্ড পুলিশ জানিয়েছে, শের সিং নামে ওই কনস্টেবল আগে থেকেই সাসপেন্ড ছিলেন। শুধু তাই নয়, তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়াও চলছিল।

'বিপ্লব আসে ভাবনা থেকে'

প্রতিবাদের মঞ্চে শের সিং অভিযোগ করেন, উত্তরাখণ্ডে চাকরির পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, "পাটোয়ারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তো সাধারণ দোকানেও পাওয়া যাচ্ছিল।" এরপর তিনি বলেন, "এটা ভগৎ সিংয়ের দেশ। বিপ্লব বন্দুক বা বোমা দিয়ে আসে না, আসে ভাবনা থেকে।" এই বলেই তিনি নিজের উর্দির ব্যাজ খুলে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকের হাতে তুলে দেন। শের সিং জানান, তরুণদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতেই তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন। এরপর এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

Scroll to load tweet…

আগে থেকেই সাসপেন্ড, জানাল পুলিশ

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরেই উত্তরাখণ্ড পুলিশ শের সিংয়ের দাবি খারিজ করে দেয়। কুমায়ুন রেঞ্জের আইজি নিবেদিতা কুকরেতি জানান, পিথোরাগড়ে নিযুক্ত শের সিং গত ২৮ জুন থেকে বিনা অনুমতিতে কাজে আসছিলেন না। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি জবাব দেননি। তাই ২০ জুলাই তাকে সাসপেন্ড করা হয়। নিবেদিতা আরও বলেন, "এই কারণে যন্তর মন্তরে শের সিংয়ের 'ইস্তফা' ঘোষণার কোনও সরকারি বৈধতা নেই।"

গ্রেফতার, সাসপেনশন এবং বিভাগীয় তদন্ত

পুলিশ আরও জানিয়েছে, শের সিংয়ের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক ফৌজদারি মামলা হয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে হরিদ্বারের গঙ্গানহর পুলিশ স্টেশনে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়াও, জমি দখলের অন্য একটি মামলায় একটি সংগঠিত অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশেষ তদন্তকারী দল তাকে গ্রেফতার করেছিল। কয়েক মাস জেলে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এই সব মামলার ভিত্তিতেই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল। যন্তর মন্তরের মঞ্চে তার মন্তব্যকে 'উস্কানিমূলক' এবং 'শৃঙ্খলাভঙ্গ' বলে মনে করছে উত্তরাখণ্ড পুলিশ। তাই তার বিরুদ্ধে নতুন করে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।