গত বছর ১৫ ই ডিসেম্বর থেকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে বা সিএএ-র বিরুদ্ধে অবিরাম প্রতিবাদ আন্দোলন চলছে দিল্লির শাহিনবাগ-এ। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়, যেখানে এক বোরখা পরিহিতা মহিলা ও জনৈক পুরুষকে প্রকাশ্যেই যৌন মিলনে লিপ্ত হতে দেখা যাচ্ছে। এই ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হয় সেটি শাহিনবাগের প্রতিবাদস্থলের ভিডিও। তাহলে কি শাহিনবাগের প্রতিবাদস্থলে খুল্লামখুল্লা যৌনতাও চলছে, প্রশ্ন উঠে যায় নেটদুনিয়ায়।

আরও পড়ুন - পুলিশকে চমকে দিয়ে উঠে আসছে শাহিনবাগ, ফের হাওয়া গরমের আশঙ্কা রাজধানীতে

রবিবার সন্ধ্যায় এক নেটিজেন এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন। তারপর থেকে ভিডিওটি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। বহু মানুষ  ওই অশ্লীল ভিডিওটি 'লাইক' করেছেন এবং আরও অনেকে রিটুইট করেছেন। সেইসঙ্গে প্রথম পোস্ট হওয়ার পর থেকে আরও অনেক সোশ্য়াল মিডিয়া ব্যবহারকারীই শাহিনবাগে তোলা হয়েছে বলে দাবি করে ওই একই ভিডিও সোশ্য়াল মিডিয়ায় পোস্ট করে। রীতিমতো হইচই পড়ে যায় ওই ভিডিওটি নিয়ে।

আরও পড়ুন - একদিনেই নতুন তিন রাজ্যে 'করোনা'র হানা, ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছল ৪৫-এ

তবে, ভিডিওটির সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে গিয়েই ধরা পড়ে গিয়েছে ভিডিওটি জাল। ভিডিওটি ঠিক কোথাকার তা স্পষ্ট না হলেও, তা যে শাহিনবাগের প্রতিবাদস্থলের নয়, তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। অন্ততপক্ষে ২০১৮ সালের মে মাস থেকে এই ভিডিওটি নেটদুনিয়ায় ঘোরাঘুরি করছে। ২০১৮-র মে মাসে ওই ভিডিওটির একটি স্ক্রিনশট টুইটারে আপলোড করেছিলেন এক ব্যবহারকারী। গত বছর থেকে বিভিন্ন পর্ন ওয়েবসাইটেও ভিডিওটি দেখা গিয়েছে। শাহিনবাগ আন্দোলন শুরুই হয়েছে ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর। কাজেই ভিডিওটি কোনওভাবেই প্রতিবাদস্থলে তোলা হতে পারে না।

আরও পড়ুন - বিরিয়ানি আর মায়ের আদরেই জব্দ 'করোনা', নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন ভারতের প্রথম রোগী

সোশ্যাল মিডিয়ায় শাহীনবাগ সম্পর্কে জাল বা ভুয়ো খবর, ছবি বা ভিডিও প্রচার এই প্রথম করা হল তা নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই স্বয়ং বিজেপির আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য শাহিনবাদ নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। সেখানে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে একদল মানুষকে টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল। ভিডিওটি পোস্ট করে অমিত দাবি করেছিলেন শাহিনবাগের আন্দোলন কংগ্রেসের স্পনসর করা। প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে দিয়ে প্রতিবাদে সামিল করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও সেই ভিডিও প্রচারিত হয়েছিল। পরে অবশ্য জানা যায়, ভিডিওটি শাহিনবাগ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে তুঘলাকাবাদের পুল প্রহ্লাদপুরে একটি মোবাইল স্টোরে তোলা।