অক্টোবর মাস আসতেই উত্তর ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে খড় পোড়ানো শুরু হয়ে গিয়েছে। আর তারসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে বায়ু দূষণ।  যা নিয়ে উদ্বেগে পরিবেশবিদ থেকে সাধারণ মানুষ। এই অবস্থায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন,  যদি সমস্ত রাজনৈতিক দল তাদের রাজনীতিকে পাশে সরিয়ে রেখে এই দূষণ রোধে সক্রিয় হয় তবে অল্প সময়ের মধ্যেই এই ভয়াবহ বায়ুদূষণ রোধ করা যাবে। তাঁর মতে দূষণ রোধে প্রত্যেককে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাতে হবে।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, খড় পোড়ানো যে একটি বিরাট সমস্যা - কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী শ্রী প্রকাশ জাভড়েকরের সঙ্গে তিনি এই বিষয়ে একমত। প্রকাশ জাভড়েকর যেমন বলেছেন অল্প সময়ের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না, তা তিনি মানতে পারছেন না। কারণ, কেজরিওয়ালের মতে সংশ্লিষ্ট সব রাজ্য সরকারগুলির যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই এই পাহাড় প্রমাণ সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। কারণ বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়াররা ইতিমধ্যেই খড় পোড়ানোর বিকল্প সমাধান নিয়ে এসেছেন। তাতে করে লাভবান হতে পারেন কৃষকরাও। কিন্তু, সেগুলি গ্রহণ করার মতো রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির অভাব দেখা যাচ্ছে।

কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, এই সমস্যার অন্তত দুটি সমাধান তাঁর হাতে রয়েছে। প্রথমত, ভারতীয় কৃষি গবেষণা কেন্দ্র বা পুসা-র বিজ্ঞানীরা এমন এক রাসায়নিক তৈরি করেছেন স্প্রে করলে খড় পচে গিয়ে, সারে পরিণত করে। পুসা-র  সুপারিশে দিল্লি সরকার এই রাসায়নিক স্প্রে করা শুরু করেছে। দ্বিতীয়ত, হরিয়ানা ও পঞ্জাবে এমন কিছু কারখানা রয়েছে যেখানে খড় বা ফসলের আগা থেকে সংকুচিত জৈব-গ্যাস বা সিবিজি, কয়লা এবং কোকে রূপান্তরিত করে। এই সিবিজি একেবারে সিএনজি অর্থাৎ রান্নার গ্যাসের মতো করেই ব্যবহার করা যায়।

কাজেই এই ধরণের প্রযুক্তিগুলিকে যদি কাজে লাগানো যায়, তাহলে খড় বা ফসলের আগা দায়-এর বদলে সুযোগ হিসাবে দেখা দেবে। রাজ্য সরকারগুলি এই ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। অরবিন্দ কেজরিওয়াল আরও প্রস্তাব দিয়েছেন এ জাতীয় আর কী কী সমাধান হতে পারে সেই বিষয়ে প্রত্যেক মাসে হরিয়ানা, পাঞ্জাব, দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্থ রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের বৈঠক করার।