Weight Loss Surgery: চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দিল্লি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর চিকিৎসকেরা। ২০৯ কেজি ওজনের চরম স্থূলতায় ভোগা ৩২ বছর বয়সী যুবক বিবেককে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিলেন তাঁরা।

Weight Loss Surgery: চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দিল্লি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর চিকিৎসকেরা। ২০৯ কেজি ওজনের চরম স্থূলতায় ভোগা ৩২ বছর বয়সী যুবক বিবেককে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিলেন তাঁরা। বিরল অস্ত্রোপচার এবং টানা দেড় মাসের নিবিড় চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ওই যুবক। স্থূলতার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, প্রাক-ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, মারাত্মক হাঁটু ব্যথা এবং অবসাদের মতো নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় জট পাকিয়েছিল তাঁর স্বাস্থ্য।

মৃত্যুর মুখ থেকে কীভাবে ফিরলেন বিবেক?

অত্যধিক ওজনের কারণে বিবেক দীর্ঘদিন ধরে ‘অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ (OSA)-সহ একাধিক জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘুমানোর সময় বারবার তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যেত, যার ফলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাচ্ছিল। রাতে স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য তাঁকে ‘সিপ্যাপ’ (CPAP) মেশিনের ওপর নির্ভর করতে হতো। তাঁর বডি মাস ইনডেক্স (BMI) দাঁড়িয়েছিল অবিশ্বাস্য ৭৪ কেজি/বর্গমিটারে, যেখানে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে তা ১৮.৫ থেকে ২৪.৯-এর মধ্যে থাকে।

অতিরিক্ত ওজনের কারণে হাঁটাচলা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল এবং রাতে ঘুমানোর সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তির পর বিবেকের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। সিপ্যাপ মেশিনেও শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা অসম্ভব হয়ে পড়লে চিকিৎসকেরা প্রথমে তাঁর শ্বাসনালীতে টিউব বসান। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে জরুরি ভিত্তিতে গলার শ্বাসনালীতে ছিদ্র করে ‘ট্র্যাকিওস্টমি’ করতে হয়। পেটের বিশাল আকারের কারণে অপারেশন থিয়েটারের টেবিলে তাঁকে নেওয়া অসম্ভব ছিল, ফলে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বেডেই এই জটিল পদ্ধতি সম্পন্ন করেন চিকিৎসকেরা।

টানা ৩২ দিনের কঠিন লড়াই

পর পর ৩২ দিন ট্র্যাকিওস্টমির মাধ্যমে সিপ্যাপ সাপোর্টে রাখা হয় বিবেককে। এই দীর্ঘ সময়ে ভেণ্টিলেটর জনিত মারাত্মক সংক্রমণ (Ventilator-Associated Infection) দেখা দিলে কড়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন চিকিৎসকেরা। সার্জন, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, ফিজিশিয়ান, ডায়েটেশিয়ান এবং ফিজিওথেরাপিস্টদের নিয়ে একটি বহুমুখী বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করা হয়। অস্ত্রোপচারের উপযোগী করতে বিবেককে টানা ৩২ দিন অত্যন্ত কম ক্যালোরির খাদ্যতালিকায় (Very Low-Calorie Diet) রাখা হয়। পাশাপাশি চলে নিয়মিত শ্বাসের ব্যায়াম, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ।

অস্ত্রোপচার ও অলৌকিক রূপান্তর

দীর্ঘ ৩২ দিনের প্রস্তুতি শেষে গত ২৪ জুলাই দিল্লি এইমস-এর মেটাবলিক, ব্যারিয়াট্রিক ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিশেষজ্ঞ ড. মঞ্জুনাথ মারুতি পোল এবং তাঁর দল বিবেকের ‘ওয়ান অ্যানাস্টোমোসিস গ্যাস্ট্রিক বাইপাস’ (OAGB) নামক বিশেষ ব্যারিয়াট্রিক সার্জারি সম্পন্ন করেন। চিকিৎসকদের মতে, এই অস্ত্রোপচারের মূল উদ্দেশ্য কেবল ওজন কমানো নয়, বরং স্থূলতাজনিত জীবনঘাতী রোগের ঝুঁকি দূর করা। অস্ত্রোপচারের পর মাত্র ১৪ দিনের মধ্যেই অলৌকিক পরিবর্তন দেখা যায়। বিবেকের ওজন ২০৯ কেজি থেকে একধাক্কায় কমে দাঁড়ায় ১৬০ কেজিতে, অর্থাৎ মাত্র দুই সপ্তাহে প্রায় ৪৯ কেজি ওজন হ্রাস পায়। তাঁর পেটের পরিধিও ১৯৮ সেন্টিমিটার থেকে কমে হয় ১৫৫ সেন্টিমিটার।

সুস্থ শরীরে বাড়ি ফেরা

অস্ত্রোপচারের পর বিবেকের শ্বাসকষ্ট সম্পূর্ণরূপে দূর হয়েছে। অতিরিক্ত মেদের চাপ থেকে মুক্তি পেয়ে আরাম পাচ্ছেন তাঁর হাড়, জোড় ও হূৎপিণ্ড। ৬ আগস্ট তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় এইমস থেকে ছুটি দেওয়া হয়। ড. মঞ্জুনাথ পোল জানান, অ্যানেস্থেসিওলজিস্টদের নিখুঁত মনিটরিং, ড. নবল বিক্রমের অধীনে অন্যান্য শারীরিক জটিলতা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং ডায়েটেশিয়ানদের সঠিক নির্দেশনার ফলেই এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছুটি মিললেও আপাতত নিয়মিত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকবেন বিবেক।