NEET Paper Leak: প্রশ্নফাঁসে NTA-র বিশেষজ্ঞদের যোগ! ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিল CBI
NEET-UG 2026 পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটি ছিল একটি সংগঠিত অপরাধ, যা একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে ছিল। CBI জানিয়েছে, মোটা টাকার বিনিময়ে NTA-র বিষয় বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন ফাঁস করে । ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা।

NEET-UG প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডের পর্দাফাঁস
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) জানিয়েছে যে NEET-UG 2026 পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটা কোনও বিচ্ছিন্ন ব্যাপার ছিল না। বরং এটা ছিল একটা বড়সড়, সংগঠিত অপরাধ চক্রের কাজ, যার জাল একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে ছিল। আর এই চক্রের অন্যতম মাথা ছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা NTA-র বিষয় বিশেষজ্ঞরা। অভিযোগ, তাঁরাই মোটা টাকার বিনিময়ে গোপন প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দালালদের একটি লম্বা চেন মারফত পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিতেন।

CBI-এর আতশকাঁচের তলায় ১৩ জন
এই ঘটনায় সিবিআই দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে NTA-র তিনজন বিশেষজ্ঞ, কোচিং সেন্টারের মালিক, দালাল এবং পরীক্ষার্থীরাও রয়েছে।
প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডের মাথারা
CBIচার্জশিট অনুযায়ী, তদন্তে জানা গেছে যে NTA-র নিয়োগ করা তিনজন বিশেষজ্ঞ—উদ্ভিদবিদ্যার মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে (A-1), রসায়নের প্রহ্লাদ বিট্টলরাও কুলকার্নি (A-2) এবং পদার্থবিদ্যার মনীষা সঞ্জয় হাবালদার (A-3)—নিজেদের পদের অপব্যবহার করেছেন। অভিযোগ, তাঁরা পরীক্ষার আগেই NEET-UG 2026-এর গোপন প্রশ্নপত্র বেআইনিভাবে বের করে চক্রের বাকিদের হাতে তুলে দেন।
কোন কোন ধারায় মামলা?
সিবিআই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), দুর্নীতি দমন আইন এবং পাবলিক এক্সামিনেশনস (অসৎ উপায় প্রতিরোধ) আইন, ২০২৪-এর অধীনে মামলা দায়ের করেছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই প্রশ্ন ফাঁসের জন্য একটা নির্দিষ্ট সাপ্লাই চেন বা চক্র তৈরি করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন ফাঁস করার পর, তা কোচিং অপারেটর ও দালালদের হাত ঘুরে শেষে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছত।
কীভাবে প্রশ্ন ফাঁসের জাল বিছিয়েছে?
সিবিআইয়ের অভিযোগ, এই চক্রে তেজস শাহ (A-4), শিবরাজ মোতেগাঁওকর (A-5), ডঃ মনোজ শিরুরে (A-6), মনীষা সঞ্জয় ওয়াঘমারে (A-7), ধনঞ্জয় লোখান্ডে (A-8), শুভম খৈরনার (A-9), যশ যাদব (A-10), মাঙ্গিলাল বিওয়াল (A-11), দীনেশ বিওয়াল (A-12) এবং বিকাশ বিওয়াল (A-13) বিভিন্ন ভূমিকা পালন করেছে। কেউ প্রশ্ন ছড়িয়েছে, তো কেউ টাকা লেনদেনের ব্যবস্থা করেছে।
ফরেন্সিক পরীক্ষায় তথ্যের হদিশ
চার্জশিটে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা মোবাইল ফোন, পেন ড্রাইভ এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। তাতে ফাঁস হওয়া NEET প্রশ্নের PDF এবং ছবির ফাইল পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের দাবি, পরীক্ষার বেশ কয়েকদিন আগেই টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে এই ফাইলগুলো চালাচালি করা হয়েছিল।
কীভাবে জাল বিছানো হয়েছিল?
ডিজিটাল প্রমাণ থেকে এই চক্রের বিভিন্ন অভিযুক্তের মধ্যে প্রশ্নপত্র চালাচালির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে সিবিআই জানিয়েছে।
এই চক্রের জাল কীভাবে ছড়িয়ে ছিল, তারও একটা ছবি তুলে ধরেছে সিবিআই। অভিযোগ, মাঙ্গিলাল বিওয়াল (A-11) আরেক অভিযুক্ত যশ যাদবের (A-10) কাছ থেকে টেলিগ্রামে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পেয়েছিল। এর জন্য যশ যাদবের এক সঙ্গীর কাছে নিজের দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির আসল সার্টিফিকেট এবং সই করা একটি ব্ল্যাঙ্ক চেক জামিন হিসেবে জমা রেখেছিল মাঙ্গিলাল। পরে তল্লাশিতে সেই নথি উদ্ধারও হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, যশ যাদব এই প্রশ্নপত্র পেয়েছিল নাসিকের বাসিন্দা শুভম মধুকার খৈরনারের (A-9) কাছ থেকে। যশের মোবাইল ঘেঁটে 'AP Broker' নামে সেভ করা একটি নম্বরের সঙ্গে চ্যাট পাওয়া যায়, যা আসলে খৈরনারের নম্বর ছিল। যশের ডিভাইস থেকেও ফাঁস হওয়া প্রশ্নের PDF ফাইল উদ্ধার হয়েছে।
২৫ লক্ষ টাকায় প্রশ্ন কেনা!
সিবিআইয়ের দাবি, খৈরনার এই প্রশ্নপত্র ২৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ধনঞ্জয় লোখান্ডের (A-8) কাছ থেকে কিনেছিল। জেরার মুখে খৈরনার নিজেই এই টাকার লেনদেনের কথা স্বীকার করেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, লোখান্ডে আবার প্রশ্ন পেয়েছিল মনীষা সঞ্জয় ওয়াঘমারের (A-7) কাছ থেকে, যিনি দালালদের মাধ্যমে প্রশ্নের হার্ড কপি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।
চার্জশিট অনুযায়ী, ওয়াঘমারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়, যেখানে 'NEET 2026' নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছিল।
এভাবেই জীববিদ্যা ও রসায়নের প্রশ্ন ফাঁস!
তদন্তে দেখা গেছে, ওয়াঘমারে NTA-র রসায়নের বিশেষজ্ঞ প্রহ্লাদ কুলকার্নির (A-2) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। কুলকার্নি NEET-UG 2026 পরীক্ষার জন্য রসায়ন বিষয়ের প্রশ্নপত্র মারাঠি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদের কাজ করেছিলেন। সিবিআইয়ের অভিযোগ, ওয়াঘমারে তার পরিচিত কিছু ছাত্রছাত্রীকে NTA-র বিশেষজ্ঞ মনীষা মান্ধারে (A-1) এবং কুলকার্নির (A-2) সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। আর তাদের মাধ্যমেই জীববিদ্যা ও রসায়নের প্রশ্নপত্র ফাঁস করে।
এক বছরের পরিকল্পনা
তদন্তের সময় সিবিআই কয়েকজন পরীক্ষার্থীর বয়ানও রেকর্ড করেছে। চার্জশিট অনুযায়ী, এক পরীক্ষার্থী ও তার বাবাকে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে NEET-UG 2026-এর প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, NTA-র এক বিশেষজ্ঞের কাছে কোচিং এবং অফলাইন রিভিশন ক্লাসের ব্যবস্থাও করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সিবিআইয়ের মতে, এই ষড়যন্ত্রের জাল বোনা শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের শেষের দিক থেকে এবং ২০২৬ সালের প্রথম দিকে।
অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের দাবি সিবিআই-এর
সব মিলিয়ে, বাজেয়াপ্ত করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস, চ্যাট রেকর্ড, উদ্ধার হওয়া নথি এবং সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতে সিবিআই দাবি করেছে যে, সরকারি পদের অপব্যবহার করে, মোটা টাকার বিনিময়ে NEET-UG 2026 পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার এক বিশাল অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছিল।

