সোমবার থেকে সেনা প্রত্যাহার করা শুরু করেছে চিন সেনা। পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর যেখানে যেখানে গত প্রায় ২ মাস ধরে তাদের সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ চলছিল, সব জায়গা থেকেই সেনা সরাচ্ছে বেজিং। এতে করে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দারা মনে করেছিলেন যুদ্ধের আশঙ্কা তাহলে দূর হল। কিন্তু মঙ্গলবার রাত হতেই তাদের চমকে উঠতে হল যুদ্ধ বিমানের বিকট শব্দে। প্রায় গোটা রাত লাদাখের পাহাড়ি এলাকায় টহল দিল ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান। তবে কি চিন-কে সামরিকভাবেও জবাব দেওয়া হবে? হবে চিনের মাটিতেও এয়ারস্ট্রাইক?

ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিভাগ, সেনা বা বায়ুসেনার পক্ষ থেকে সেইরকম কোনও ইঙ্গিত এখনও পাওয়া যাচ্ছে না। সূত্রের খবর পাংগং হ্রদ, গোগড়া এবং হট স্প্রিংস-সহ পূর্ব লাদাখের সমস্ত অঞ্চলগুলি থেকে চিন সেনা প্রত্যাহারের পর আগের স্থিতাবস্থা পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত চিনকে চাপে রাখতে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর এই অঞ্চলে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান দিনে ও রাতে সমমানে নজরদারি চালিয়ে যাবে।

প্রতিরক্ষা বিভাগের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে ভারতের দিক থেকে কোনওরকম শিথিলতার প্রশ্নই নেই। সেনাবাহিনী এবং বায়ুসেনা - দুই বাহিনীই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর তাদের উচ্চ সতর্কতা বজায় রাখবে। প্রসঙ্গত, গত রবিবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-এর মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টার ভিডিও কলের পরই সোমবার সকাল থেকে সেনা প্রত্যাহার করা শুরু করেছে চিন।

একদিকে যেমন ভারত কুটনৈতিক স্তরে এই সীমান্ত বিবাদ মীমাংসার চেষ্টা করে গিয়েছে, অন্যদিকে গত কয়েকদিনে সীমান্ত এলাকাতেও সেনাবাহিনী ও বায়ুসেনার তৎপড়তা বাড়িয়েছে। আইএএফ পূর্ব লাদাখের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান, হামলাকারী হেলিকপ্টার এবং পরিবহনের বিমানগুলির সংখ্যা দারুণভাবে বাড়িয়েছে। এছাড়া আইএএএফ এই অঞ্চলে ভারতের সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করার জন্য ভারি সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র বহনকারী কয়েকটি বেশ কয়েকটি সামরিক মালবাহী বিমান-ও এনেছে। যুদ্ধবিমানগুলির মধ্যে রয়েছে, সুখোই ৩০ এমকেআই, জাগুয়ার, মিরাজ ২০০০। রয়েছে অ্যাপাচি হামলাকারী চপার এবং চিনুক ভারী-বহন হেলিকপ্টারও।