মাস সাতেক আগে সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছিল শাশুড়ির। সে নিয়ে কারও মনে দ্বিধা ছিল না। কিন্তু, এতদিন পর জানা গেল বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে বাধা পেয়ে তাঁকে খুন করেছিলেন স্বয়ং বউমা। রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার বুহানা এলাকার সাগওয়া গ্রামের ঘটনা। পুলিশ তাকে ও তার প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে।

জানা গিয়েছে, ধৃত মহিলার স্বামী, শ্বসুর ও দেওর তিনজনেই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করেন। কাজের সূত্রে তাঁরা বাইরে থাকেন। গ্রামের বাড়িতে থাকতেন শুধু শাশুড়ি ও বউমা। স্বামীর অনুপস্থিতিতে ওই মহিলার সঙ্গে জয়পুরের এক ব্যক্তির বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পুত্রবধূকে প্রায়শই ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে কথা বলতে দেখেই শাশুড়ির প্রথম সন্দেহ হয়েছিল। এই নিয়ে তাঁর সঙ্গে পুত্রবধূর খটাখটিও লাগে।  

একদিন শাশুড়ি বাড়ির বাইরে গেলে পুত্রবধু তার প্রেমিককে বাড়িতে ডাকে। তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার মাঝপতেই এসে পড়েছিলেন শাশুড়ি। তাঁর চোখে সবটা ধরা পড়ে যায়। এরপরও শাশুড়ি তাঁর পূত্রবধুকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে পথে আনার চেষ্টা করেন। ওই ব্যক্তির সঙ্গে সব সম্পর্ক চুকিয়ে না দিলে ছেলেকে জানিয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখান।

আরও পড়ুন - সাপের বিষের থেকেও বিষাক্ত, ছটফট করতে করতে উগরাতে হল স্বয়ং কেউটে-কেই, দেখুন ভিডিও

ওই মহিলা তখনকার মতো তা মেনে নিলেও, তার প্রেমের পথে শাশুড়ির বাধা মন থেকে মেনে নেয়নি। বরং তার প্রেমিককে নিয়ে শাশুড়িকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। যাতে তাদের উপর সন্দেহের আঁচ না পড়ে তাই সাপের কামড় খাইয়ে তাকে মারার ছক কষা হয় ও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকরও করা হয়।

এই অবধি ঠিকই ছিল। কিন্তু এরপর তার স্বামী তাঁর ভাইকে, স্ত্রীয়ের দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেওয়ার পরই বিষয়টি অন্যদিকে মোড় নেয়। ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলা দেখে সেই ভাইয়ের মনেও সন্দেহ জাগে। তিনি ওই মহিলার স্বামী অর্থাৎ তাঁর দাদাকে বিষয়টি জানান। এরপর স্বামীও সন্দিগ্ধ হয়ে পড়েন, এবং থানায় অভিযোগ জানান। পুলিশ তদন্তে নামলে ধীরে ধীরে এই গোপন রহস্য ফাঁস হয়। তারপরই ঘটনার সাতমাস পর গ্রেফতার হয়েছেন ওই মহিলা ও তাঁর প্রেমিক।