মহিলারা ঘরের কাজে প্রতিদিন ২৮৯ মিনিট ব্যয় করেন, পুরুষদেরটা জানলে হেসে গড়িয়ে পড়বেন
Women and Men in India 2025 Report: হাতে একটি মর্যাদাপূর্ণ ডিগ্রি, অফিসে 'ম্যানেজার'-এর পদ, কিন্তু বাড়ি ফিরেই সেই একই রান্নাঘরের কাজ! কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বশেষ 'উইমেন অ্যান্ড মেন ইন ইন্ডিয়া ২০২৫' রিপোর্ট এক চমকপ্রদ চিত্র তুলে ধরেছে।

Women and Men in India 2025 Report: হাতে একটি মর্যাদাপূর্ণ ডিগ্রি, অফিসে 'ম্যানেজার'-এর পদ, কিন্তু বাড়ি ফিরেই সেই একই রান্নাঘরের কাজ! কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বশেষ 'উইমেন অ্যান্ড মেন ইন ইন্ডিয়া ২০২৫' রিপোর্টটি ভারতীয় নারীদের এই দ্বৈত জীবনের এক চমকপ্রদ চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনের তথ্য প্রমাণ করে যে, দেশের মেয়েরা শিক্ষা ও উপার্জনে ছেলেদের ছাড়িয়ে গেলেও, গৃহস্থালির কাজের ক্ষেত্রে তারা এখনও পুরুষদের চেয়ে তিনগুণেরও বেশি সময় ব্যয় করে।
কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান মন্ত্রকের (MoSPI) এই রিপোর্টটি প্রকাশ করে যে, ভারতীয় নারীরা এখন শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, উচ্চ পদেও নিজেদের ছাপ রাখছেন। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে রয়েছে এক কঠোর বাস্তবতা। গৃহস্থালির কাজের সবচেয়ে বড় বোঝা এখনও তাদেরই বহন করতে হয়। পড়াশোনায় ছেলেরা পিছিয়ে রয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রের খবরটি খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। রিপোর্ট অনুসারে, উচ্চশিক্ষায় পুরুষদের তুলনায় নারীদের ভর্তি দ্রুতগতিতে বেড়েছে। যেখানে পুরুষদের ভর্তির অনুপাত ২৮.৯, সেখানে নারীরা ৩০.২-এর এই সংখ্যা নিয়ে তাদের ছাড়িয়ে গেছে।
এটিও একটি ইতিবাচক লক্ষণ যে শিক্ষার প্রতিটি স্তরে এখন ছেলে ও মেয়েদের সংখ্যা সমান। নারীরা ম্যানেজার হয়েছে, কিন্তু গৃহস্থালীর কাজ থেকে রেহাই পায়নি। নারীরা তাদের কর্মজীবনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। ম্যআনেজার পদে নারীদের সংখ্যা বিস্ময়করভাবে ১০২.৫৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে,সবচেয়ে আশ্চর্যজনক দিকটি সময় ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
তথ্য অনুসারে, নারীরা প্রতিদিন গড়ে ২৮৯ মিনিট অবৈতনিক গৃহকর্মে ব্যয় করে। এর বিপরীতে, পুরুষরা গৃহস্থালীর কাজে মাত্র ৮৮ মিনিট সময় দেয়। এর অর্থ হল অফিসে বস হওয়ার পরেও মহিলারা গৃহস্থালীর দায়িত্বের সিংহভাগই বহন করে চলেছে। অন্যদিকে, একই সময়ে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৭৩.৮০ শতাংশ। এছাড়াও, শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার (এলএফপিআর) উন্নত হয়েছে, যেখানে গ্রামীণ মহিলাদের অংশগ্রহণ ৩৭.৫% থেকে বেড়ে ৪৫.৯% হয়েছে।
রিপোর্টটির অন্যান্য প্রধান দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশের লিঙ্গ অনুপাতের উন্নতি। জন্মকালীন লিঙ্গানুপাত ৯০৪ থেকে বেড়ে ৯১৭ হয়েছে, যা একটি পরিবর্তিত সামাজিক মানসিকতার প্রতিফলন। লিঙ্গানুপাত: ২০১৭-১৯ সালে জন্মকালীন লিঙ্গানুপাত ছিল ৯০৪ এবং ২০২১-২৩ সালে তা বেড়ে ৯১৭ হয়েছে। উচ্চশিক্ষা: উচ্চশিক্ষায় নারীদের মোট ভর্তির হার (GER) বেড়ে ৩০.২ হয়েছে, যা পুরুষদের (২৮.৯) হারকে ছাড়িয়ে গেছে। স্কুল শিক্ষা: দেশটি প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার প্রতিটি স্তরে লিঙ্গ সমতা অর্জন করেছে।
মন্ত্রক মনে করে যে এই তথ্যগুলো ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারক এবং গবেষকদের আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও লিঙ্গ-সংবেদনশীল কৌশল প্রণয়নে সহায়তা করবে। সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে (mospi.gov.in) পাওয়া যাবে।