ভয়ঙ্কর ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খন্ডের গারওয়া এলাকার কোন্ডিরা গ্রামে। অন্ধ বিশ্বাসের ফলে এক মহিলার শারীরিক উন্নতির জন্য চিকিৎসকের বদলে নিয়ে যাওয়া হয়  তান্ত্রিকের কাছে। অসুস্থতার কারনে পরিবারের লোকেরাই তাঁকে নিয়ে যান এক তান্ত্রিক দম্পতির কাছে। সেখানেই ঘটে এই বিপত্তি। শারীরিক উন্নতির নামে উপড়ে ফেলা হয় ওই মহিলার চোখ। তান্ত্রিক দম্পতির এমন কাজের ফলে মৃত্যু হয় ওই মহিলার। অভিযুক্ত তান্ত্রিক দম্পতি এখন পুলিশের হেফাজতে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন রুদনী নামের ওই মহিলা। তাঁর চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে না নিয়ে গিয়ে সেখানকারই এক প্রসিদ্ধ তান্ত্রিক দম্পতির কাছে নিয়ে যায় তার পরিবার। ধৃত ওই তান্ত্রিক দম্পতির নাম সতেন্দ্র ওঁরাও এবং আলম দেবী। রুদনী দেবীকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে ওই তান্ত্রিক দম্পতি তাঁর পরিবারকে জানান শয়তান বাসা বেঁধেছে ওর শরীরে। সতেন্দ্র এবং আলম এও জানান তারাই পারবেন ওকে ওই শয়তানের হত থেকে রক্ষা করতে। এরপরই ওই মহিলার ওপর চিকিৎসার নাম করে শুরু হয়ে যায় আত্যাচার। যাতে তাঁর পরিবারেরও সম্মতি ছিল। প্রথমেই তাঁর সারা শরীরে ত্রিশূল দিয়ে গর্ত করে দেওয়া হয়। তার পরে উপড়ে ফেলা হয় তাঁর চোখ। এমনিতেই তিনি বেশ অসুস্থ ছিলেন তার উপরে এই অত্যাচার সইতে না পেরে যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে মারা যান তিনি। 

আরও পড়ুুুুন- সেতুর পর এবার বন্ধ ভারী যান চলাচলও, এমন সিদ্ধান্তই নেওয়া হল খিদিরপুর ও কালীঘাট সেতুর ক্ষেত্রে

রুদনী দেবীর মারা যাওয়ার এই খবর লোকাতে তার পরিবার তার মৃত দেহটি পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টাও করেন। অনেক চেষ্টাতেও হয়নি শেষ রক্ষা। ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে এসে পৌঁছায় পুলিশ। তারা এসে গ্রেফতার করেন ওই তান্ত্রিক ও রুদনী দেবীর পরিবারের অভিযুক্তদের। 

এই ঘটনা আবারও বুঝিয়ে দিচ্ছে যুগ বদলালেও মানুষের চিন্তা ভাবনা ও অন্ধবিশ্বাস আজও বদলায়নি। কুসংস্কারের প্রতি কোনও প্রচারই মানুষকে শোধরাতে পারেনি আর তার জেরেই প্রাণ দিতে হল এই মহিলাকে। তবে এই ঘটনা বন্ধ করার জন্য আরও অনেক বেশি সচেতনতা।