বেশ কয়েকদিন ধরেই টালবাহানা চলছিল। ইয়েস ব্যাঙ্ক নিয়ে শুক্রবারই প্রথম মুখ খুলল কেন্দ্রীয় সরকার। ইয়েস ব্যাঙ্ক নিয়ে রীতিমত আশাবাদী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। শুক্রবার সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইয়েস ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ব্যাঙ্কে গচ্ছিত প্রত্যেক গ্রাহকের  টাকা সুরক্ষিত রয়েছে । পাশাপাশি তিনি বলেন খুব তাড়াতাড়ি ইয়েস ব্যাঙ্ক সংকট কাটিয়ে উঠবে। তিনি আরও জানান রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ারর গর্ভনরের সঙ্গে ইয়েস ব্যাঙ্ক ইস্যুতে তিনি সর্বদা যোগাযোগ রেখে চলছেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারও যোগাযোগ রাখছে আরবিআইএর সঙ্গে।  খুব তাড়াতাড়ি ইয়েস ব্যাঙ্ক সংকট কাটিয়ে উঠবে বলেও তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন আরবিআই কর্তৃপক্ষ। তিনি আরও বলেন, সরকার ও আরবিআই ইয়েস ব্যাঙ্কের পরিস্থিতিত নিয়ে সর্বদা খোঁজ খবর নিচ্ছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করছে। 

আরও পড়ুনঃ শুক্রবারও উত্তপ্ত সংসদ, ১১ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত দুই কক্ষের অধিবেশন

তবে ইয়েস ব্যাঙ্ক নিয়ে আবারও রাহুল গান্ধি নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। ট্যুইট করে তিনি বলেন, ইয়েস ব্যাঙ্ক নয়। মোদি ও তাঁর চিন্তাভাবনাই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে ভারতের অর্থনীতিকে। এরপরই আসরে নামেন বিজেপি নেতা ও দলের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান অমিত মালব্য। পাল্টা ট্যুইট করে নিশানা করেন রাহুল গান্ধিকে। তিনি বলেন, ভুল করছেন রাহুল। ভারতীয় ব্যাঙ্ক ও অর্থনীতির এই জগাখিচুড়ি আবস্থার জন্য দায়ি আপনার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম। একটি ভিডিও পোস্ট করেন অমিত মালব্য। যেখানে অমর সিং সরাসরি নিশানা করেন চিদম্বরমকে। তিনি অভিযোগ চিদম্বরমের কার্যকালেই টাকা নয়ছয় হয়েছে। আর সেই টাকা ফিরিয়ে আনতে প্রবল চেষ্টা করেছেন নরেন্দ্র মোদী। তবে তার আগেই চিদম্বরম মোদি সরকারকে নিশানা করেন। তিনি  পিএনসি ও ইয়েস ব্যাঙ্কের ভরাডুবি নিয়ে সরাসরি নিশানা করেন কেন্দ্রীয় সরকারকে। বিজেপি ছ-বছর ক্ষমতায় রয়েছে। এরই মধ্যে একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কেলেঙ্কারি সামনে আসছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।  

 

আরও পড়ুনঃ ৫০ হাজারের বেশি টাকা তোলা যাবে না, ইয়েস ব্যাঙ্কের ওপর নিয়ন্ত্রণ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের

 

ইয়েস ব্যাঙ্কের সংকট সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে আগামী তেশরা এপ্রিল পর্যন্ত এই ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের কাছে টাকা তোলার উর্দ্ধসীমা থাকবে ৫০ হাজার টাকা । পাশাপাশি ব্যাঙ্ক চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসবিআই-এর প্রাক্তন প্রশান্ত কুমারের ওপর। এই সময় ইয়েস ব্যাঙ্ক কোনও ঋণ দিতে পারবে না বলেও কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছে আরবিআই। ব্যাঙ্কটির পুনরুজ্জীবনের জন্য সবরকম পদক্ষেপ করা হবে বলে শুক্রবার সকালেই জানিয়েছেন রিজার্ভব্যাঙ্কের গর্ভনর শক্তিকান্ত দাস। তবে এদিন সকালেই ইয়েস ব্যাঙ্কের শেয়ারে ধস নামে। গতকাল শেয়ার মার্কেট বন্ধ হওয়ার সময় শেয়ারের মূল্য ছিল ৩৬ টাকা ৮০ পয়সা। এদিন সেই দাম পড়ে গিয়ে হয় মাত্র ৫টাকা ৬৫ পয়সা।