কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সৌরভ জোশী ও তাঁর স্ত্রী অবন্তিকা একদল সুবিধাবঞ্চিত স্কুলছাত্রছাত্রীর জন্য আস্ত একটা ইন্ডিগো ফ্লাইট বুক করেন। বাচ্চাদের প্রথমবার প্লেনে চড়ার অভিজ্ঞতা দিতেই এই উদ্যোগ। হলদোয়ানি থেকে নয়ডা পর্যন্ত এই যাত্রার পর ডিনার ও গেমিং আর্কেডেও নিয়ে যাওয়া হয় তাদের।
কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সৌরভ জোশী সম্প্রতি একদল সুবিধাবঞ্চিত স্কুলছাত্রছাত্রীর জন্য আস্ত একটা ফ্লাইট বুক করেছেন। এর মাধ্যমে অনেক বাচ্চাই জীবনে প্রথমবার প্লেনে চড়ার সুযোগ পেল। সৌরভ ও তাঁর স্ত্রী অবন্তিকা একটি ইউটিউব ভিডিওতে বাচ্চাদের এই বিশেষ দিনটির আগাগোড়া তুলে ধরেছেন।
ভিডিওর শুরুতে দেখা যায়, হলদোয়ানির পন্তনগরের এয়ারপোর্টের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে বাচ্চাদের একটি বাস সৌরভের বাড়িতে আসে। সৌরভ জানান, তিনি বাচ্চাদের জন্য ইন্ডিগোর পুরো ফ্লাইটটাই বুক করে ফেলেছেন। বাচ্চাদের চোখেমুখে ছিল উত্তেজনা আর আনন্দ। প্লেনে উঠে অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না যে তারা সত্যি সত্যি প্লেনের ভেতরে বসে আছে।
অবন্তিকাও এই দিনের কিছু মুহূর্ত ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, এয়ারপোর্টে যাওয়ার আগে তাঁরা মন্দিরে গিয়ে আশীর্বাদ নেন। এরপর এয়ারপোর্টে বাচ্চাদের হাতে বোর্ডিং পাস তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের জন্য বিশেষ অভ্যর্থনারও ব্যবস্থা ছিল।
অবন্তিকা বলেন, যেহেতু বাচ্চারা প্রথমবার প্লেনে উঠছিল, তাই টেকঅফের সময় তারা বেশ উদ্বিগ্ন আর ভয় পেয়েছিল। তাদের ভয় কাটাতে আর যাত্রাটা উপভোগ্য করে তুলতে সৌরভ ও তিনি বাচ্চাদের সঙ্গে সমানে কথা বলছিলেন। ল্যান্ডিংয়ের সময়ও কয়েকজন বাচ্চা বেশ নার্ভাস হয়ে পড়ে, কিন্তু ওই দম্পতি তাদের পাশেই ছিলেন।
নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর, সবাইকে একটি বাসে করে রেস্তোরাঁয় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সবাই মিলে জমিয়ে ডিনার করে। এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় একটি গেমিং আর্কেডে। সেখানে তারা পিৎজা খায়, গেম খেলে এবং ঘুরেফিরে সময় কাটায়।
দিন শেষে বাচ্চারা বাসে করে হলদোয়ানির উদ্দেশে রওনা দেয়। সৌরভ ও অবন্তিকা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের বাসে তুলে দেন। এরপর ভোর চারটে নাগাদ তাঁরা নিজেদের বাড়িতে ফেরেন।
দেখুন ভাইরাল ভিডিও
এই মানবিক উদ্যোগটি অনলাইনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "এটা খুবই সুন্দর আর ভালোবাসায় ভরা! বাচ্চাদের মুখের ওই নির্মল আনন্দ আর উজ্জ্বল হাসি দেখে মনটা সত্যি গলে গেল।"
আরেকজন মন্তব্য করেছেন, "বহুত খুশি হুয়ি। আপ সব বহুত পেয়ারা কাম কর রহে হো।"
অন্য একজন লিখেছেন, "ইয়ে আপনে বহুত হি আচ্ছা কাম কিয়া যো গরিব বাচ্চো কে সপনো কো ভি উড়ান দি।"
সাধারণ একটা দিনের ট্রিপ এই বাচ্চাদের কাছে সারাজীবনের স্মৃতি হয়ে রইল। তাদের মধ্যে অনেকেই এই প্রথমবার আকাশে ওড়ার আনন্দ উপভোগ করল।
