Shiv Sena Split Dispute: দু'টুকরো শিবসেনা মামলায় বড় কথা জানাল দেশের শীর্ষ আদালত। উদ্ধভ ঠাকরে এবং একনাথ শিন্ডে শিবিরের শিবসেনা বিভাজন সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের মামলায় পাঁচ আগস্ট বুধবার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হলো সুপ্রিম কোর্টে।
Shiv Sena Split Dispute: দু'টুকরো শিবসেনা মামলায় বড় কথা জানাল দেশের শীর্ষ আদালত। উদ্ধভ ঠাকরে এবং একনাথ শিন্ডে শিবিরের শিবসেনা বিভাজন সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের মামলায় পাঁচ আগস্ট বুধবার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হলো সুপ্রিম কোর্টে। একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠীকে মূল শিবসেনা হিসেবে মোট স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল সেই সংক্রান্ত আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি চলছে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার সমন্বয়ে গঠিত তিন বিচারপতির বেঞ্চ এই জটিল মামলার শুনানি গ্রহণ করছেন। শুনানিপর্বে শীর্ষ আদালত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে জানিয়েছে রাজনৈতিক দলের ভেতরে সংখ্যাগরিষ্ঠতা কীসের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট মানদণ্ড থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান এই ধরনের নির্দিষ্ট মানদণ্ড তৈরি থাকলে ভবিষ্যতে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ সহজেই এড়ানো সম্ভব হবে।
সংবিধান বেঞ্চের রায় এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ২০২৩ সালের সুভাষ দেশাই বনাম মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল মামলার সংবিধান বেঞ্চের ঐতিহাসিক রায়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। ওই আদেশ অনুসারে আইনসভা দলের ওপরে সর্বদাই মূল রাজনৈতিক দলের কর্তৃত্ব বহাল থাকে। রাজনৈতিক দলের যেকোনো বৈধ সিদ্ধান্ত আইনসভা দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ইচ্ছার ওপরেও প্রাধান্য পাবে। বিচারপতি বাগচী উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশন শিন্ডে গোষ্ঠীকে আসল দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সময় মূল রাজনৈতিক দলের সংগঠনকে গুরুত্ব না দিয়ে কেবল আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক দলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঠিক অর্থ এবং সীমা নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। আদালতের মতে রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। বিচারপতি বাগচী বলেন একটি দলের নিজস্ব সংবিধানের মধ্যেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা উচিত কিভাবে তাদের দলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারিত ও বিবেচিত হবে।
আইনসভার প্রতিনিধি বদল এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ
উদ্ধভ ঠাকরে নেতৃত্বাধীন শিবসেনা ইউবিটি গোষ্ঠীর দায়ের করা আবেদনের অংশ হিসেবে এই চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক পেশ করা হচ্ছে। শিবসেনা ইউবিটি সদস্য সুনীল প্রভুর পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে সওয়াল করেন। মহারাষ্ট্র বিধানসভার স্পিকার দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে শিন্ডে গোষ্ঠীর বিধায়কদের অযোগ্য ঘোষণা করতে অস্বীকার করেছিলেন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এই আবেদনগুলি দায়ের করা হয়। কপিল সিব্বল আদালতে যুক্তি দেন নির্বাচন কমিশনকে কেবল আইনসভা দলের বিভাজন নয় বরং মূল রাজনৈতিক দলের বিভাজন বিচার করতে হয়। সুভাষ দেশাই মামলার রায় মেনে আইনসভা দলের কোনো বিশেষ অংশ স্বাধীনভাবে তাদের দলীয় নেতা বা চিফ হুইপ পরিবর্তন করতে পারে না। সিব্বল জোর দিয়ে বলেন এই বিষয়টির সঙ্গে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বড় স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা হঠাৎ করে দল পরিবর্তন করে নতুন জোট গড়ে সরকার ফেলে দিলে এবং পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত অযোগ্যতা প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখলে তা সংবিধানের মূল কাঠামোর পরিপন্থী কি না।
দলীয় প্রতীক এবং পরবর্তী শুনানি
নির্বাচন কমিশন ২০২৩ সালে শিন্ডে গোষ্ঠীকে মূল দলের নাম এবং ধনুক বাণ প্রতীক বণ্টন করেছিল। সুপ্রিম কোর্ট কমিশনের সেই সিদ্ধান্তের আইনি যৌক্তিকতাও খতিয়ে দেখছে। নির্বাচন কমিশন মূলত শিন্ডে পক্ষে অধিকাংশ বিধায়কের সমর্থন থাকার কারণেই সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু শীর্ষ আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে কেবল আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে কোনো গোষ্ঠী আসল রাজনৈতিক দল কি না তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায় না। মূল রাজনৈতিক দল এবং আইনসভা দলের মধ্যে পার্থক্য এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আদালত পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে সাংগঠনিক কাঠামো এবং দলের নিজস্ব সংবিধান এই ধরনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কপিল সিব্বল বলেন, দশম তফসিলের অধীনে আইনসভা দলে বিভাজনের যে ধারণার কথা বলা হচ্ছে তা এই পদ্ধতিতে স্বীকৃত নয়। ২০২২ সালে শিবসেনার বিদ্রোহের মাধ্যমে উদ্ভূত আইনি লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় এই শুনানি চলছে। ওই বিদ্রোহের ফলেই মহারাষ্ট্রে উদ্ধভ ঠাকরে নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটেছিল। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি অব্যাহত রাখবে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা, নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্পষ্ট আইনি নির্দেশিকার প্রয়োজনীয়তা পুনর্নিরূপণ করল।


