বিশ্ব জুড়ে এখন ছড়িয়ে পড়েছে করোনা আতঙ্ক। ১৬০টিরও বেশি দেশে পাওয়া পাওয়া গিয়েছে কোভিড-১৯ ভাইরাস। এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রতিষেধক তৈরি করতে পারেননি গবেষকরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভাইরাসটিকে প্রতিরোধ করতে শুরু হয়েছে পরীক্ষা নিরিক্ষা। তবে ওষুধ তৈরি করতে এখনও সময় লাগবে বলেই জানাচ্ছেন গবেষকরা। এদিকে পৃথিবীতে বর্তমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে ২ লক্ষের গণ্ডি। এই ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে বয়স্ক মানুষেরাই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে উঠে আসছে গবেষণায়।

করোনায় এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মৃত্যু হয়েছে ৮ লক্ষ মানুষের। এদের মধ্যে অধিকাংশই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। মৃতের হার সবচেয়ে বেশি ৮০ বছর বা তার চেয়েও বেশি বয়সীদের মধ্যে। প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণেই বয়স্ক ব্যক্তিরা সহজেই করোনার শিকার হচ্ছেন বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে এই মারণ করোনাকেই একেবারে গোহারান হারিয়ে দিলেন ইরানের ১০৩ বছরের এক বৃদ্ধা।

আরও পড়ুন: ট্রাফিক দাঁড় করিয়ে কীভাবে হাত ধোবেন তার প্রশিক্ষণ পুলিশকর্তার, মুহুর্তে ভাইরাল ভিডিও

বিশ্বের যেসমস্ত দেশে করোনা মারাত্মক আকার নিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানও। এখানকারই সেমনান শহরে সপ্তাহ খানেক আগে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ওই বৃদ্ধা। তবে ১০৩ বছরের বৃদ্ধা চিকিৎসার পর এখন পুরোপুরি সুস্থ বলেই জানাচ্ছেন সেমনান ইউনির্ভাসিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সের প্রধান নাভিদ দানইয়া। তাঁকে হাসপাতাল থেকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাভিদ।বৃদ্ধার আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ ও অ্যাজমা থাকলেও সুস্থতার পথেতা কোনও বাধা হয়নি।

তবে ওই বৃদ্ধাই নন ইরানে আরও এক বয়স্ক ব্যক্তি করোনা জিতে বাড়ি ফিরেছেন। কেরমান শহরের ৯১ বছরের ওই বৃদ্ধ এখন পুরোপুরি সুস্থ আছেন বলেই জানা যাচ্ছে। তবে ইরানে বয়স্ক এই দুই ব্যক্তির চিকিৎসার ক্ষেত্রে কী পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল সে সম্পর্কে কিছু জানান হয়নি। 

আরও পড়ুন: চিন্তা বাড়ল মুম্বইবাসীর, করোনার কারণে এবার লম্বা ছুটিতে যাচ্ছেন ডাব্বাওয়ালারা

তবে কেবল ইরান নয় করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ জিতে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ভারতের এক বৃদ্ধ। রাজস্থানের বাসিন্দা ৮৫ বছরের ওই বৃদ্ধ দুবাই থেকে ফেরার পর তাঁর শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়। জয়পুরে সোয়াই মান সিং হাসপাতালে এক ইতালিয় বৃদ্ধ দম্পতির সঙ্গে৮৫ বছরের ওই বৃদ্ধও সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে জানা যাচ্ছে। এইডস, ম্যালেরিয়া ও সোয়াইন ফ্লুর ওষুধের সংমিশ্রণেই তাঁদের সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।